কুমিল্লা নগরীর একটি শিব মন্দিরে মুখোশ পরিহিত দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণে পুরোহিতসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া (বাগানবাড়ি) এলাকার কালী গাছতলা শিব মন্দির ও আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণে মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী আহত হন। এছাড়া পাশের রাস্তায় আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণে তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় মন্দিরে পুরোহিতসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শনিপূজা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে মুখোশ পরা এক ব্যক্তি ব্যাগ হাতে মন্দিরে প্রবেশ করে। তখন মন্দিরের পাশে আরও কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ব্যাগটি রেখে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মন্দিরে থাকা মানুষজন ও আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে আহত পুরোহিত কেশব চক্রবর্তীকে পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় পার্শ্ববর্তী একটি বৌদ্ধ মন্দির ও ব্র্যাক অফিসের সামনে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আবদুল বারেক ও জিহাদ নামে দুইজনসহ আরও একজন আহত হন। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রায় দুই মিনিট ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের পর একটি সাদা বস্তু তার সামনে পড়ে। প্রথমে তিনি মনে করেছিলেন গাছ থেকে কিছু পড়েছে। পরে ধোঁয়া দেখে অন্যরা জানান এটি বোমা।
মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক শ্যামল কৃষ্ণ বলেন, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গেছেন। কারা এই হামলা চালিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে যারা শান্ত পরিবেশ অশান্ত করতে চায় তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল আনোয়ার জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। কী কারণে এবং কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

