শনিবার

৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাসযাত্রায় অজ্ঞান, তারপর নিখোঁজ—চার দিন পর মিলল সন্ধান

🕙 প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২৬ । ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর গাবতলী পশুর হাট থেকে গরু বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে নিখোঁজ হওয়া মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কানাইনগর গ্রামের কৃষক মুজাম বিশ্বাস (৭০) অবশেষে উদ্ধার হয়েছেন। আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকার নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে খুঁজে পান স্বজনরা। তার সন্ধান মেলায় পরিবারে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও আনন্দের আবহ।
শুক্রবার (২৯ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। আজ শনিবার (৩০ মে) সকালে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর বর্তমানে তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখনো তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না এবং অনেককেই ঠিকমতো চিনতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে মেয়ের জামাই সুরুজ আলীকে সঙ্গে নিয়ে একটি ষাঁড় গরু বিক্রির উদ্দেশ্যে গাবতলী পশুর হাটে যান মুজাম বিশ্বাস। গরুটি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করার পর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে টাকা অন্যের মাধ্যমে আগেই বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে রাত ১টার দিকে শ্বশুর-জামাই স্থানীয় বাসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
অভিযোগ রয়েছে, পথে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে তাদের চেতনানাশক কিছু খাইয়ে অচেতন করে ফেলে। পরদিন গাজীপুর এলাকা থেকে সুরুজ আলীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও মুজাম বিশ্বাসের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে পরিবারজুড়ে নেমে আসে চরম উৎকণ্ঠা ও শোকের ছায়া।
স্বজনরা জানান, নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনলাইন ভার্সনে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে আশুলিয়ার নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুজাম বিশ্বাসের ছবি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে পরিচিতজনদের নজরে আসে বিষয়টি। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের খবর দিলে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।
জানা গেছে, এক মানবিক ভ্যানচালক আশুলিয়ার একটি সড়কের পাশে মুজাম বিশ্বাসকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। শুক্রবার দুপুরে তার জ্ঞান ফিরলেও কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা যায়। এছাড়া তার ডান পায়ে আঘাত রয়েছে, যার কারণে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতেও কষ্ট হচ্ছে।

মুজাম বিশ্বাসের ছেলে মোয়াজ্জেম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,”বাবার নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা সিংগাইর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। কয়েকদিন ধরে আমাদের পরিবারে ঈদের কোনো আনন্দ ছিল না। বাবাকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ আমাদের কাছে ঈদের আনন্দের চেয়েও বড়। তবে তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার চিকিৎসা ও দেখভাল চলছে।”

এ বিষয়ে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন,
“নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। আইন অনুযায়ী পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্ধার সংক্রান্ত আরেকটি জিডি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।”

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ