রবিবার

১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতার হেনস্তার ঘটনা একপাক্ষিক প্রচারণার অভিযোগ

🕙 প্রকাশিত : ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ

মানিকগঞ্জ ৩ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে মানিকগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতার হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনাটিকে একপাক্ষিক প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতার কর্মী সমর্থকরা।
গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছায়ের শেষ দিনের সেই আলোচিত ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা গণমাধ্যমে তুলে ধরেন তারা।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ বলেন, আতাউর রহমান আতার মনোনয়ন পত্র যখন বাতিল হল তিনি কিন্তু রিটার্নিং অফিসার কে তখন বলতে পারতেন কিন্তু উনি তা না করে আমাদের দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
জেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জিন্নাহ খান বলেন, নির্বাচনটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এবং যাচাই-বাছাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আতাউর রহমান আতা একটা বিতর্কের সৃষ্টি করছেন। এটা সম্পূর্ণই তার দোষ। উনি বরাবরই দলের বিপক্ষে অবস্থান নেন।
জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন বলেন, আফরোজা খানম রিতা আপার যে জনপ্রিয়তা আছে এবং আপার দীর্ঘদিনের শ্রম, ঘাম, মেধার যোগ্যতাই এমনিতেই বিপুল ভোটে জয়ী হবে।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ বলেন, আমাদের যিনি দলের মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা, উনি অত্যন্ত নমনীয়, সেক্ষেত্রে কোন বিদ্রোহী প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী তারা যেন কোন ভাবেই হয়রানি বা বাধার শিকার না হন, সে ব্যাপারে আপা আমাদেরকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
রিটার্নিং কার্যালয়ে সেদিনের ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপি’র সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ জাদু। তিনি বলেন, আতাউর রহমান আতা আমাদের দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, শুনানিতে সেদিন তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। আর আমাদের দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আতাউর রহমান আতা আমাদের দলের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করার জন্য তিনি উপস্থিত তিতাস গ্যাসের অফিসারকে চাপ দিতে থাকেন সেজন্যই আমরা তাকে সেখান থেকে বের হয়ে যেতে বলেছি। বিষয়টা এতোটুকুই। তারপরও আমরা আতাউর রহমান আক্তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি কিন্তু উনি বিষয়টাকে আরো জটিল করার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, আতা জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য থাকা সত্ত্বেও তিনি বিগত আন্দোলন সংগ্রামে কোন ভূমিকাই রাখে নাই। এর আগে মালেক সাবের ভাইগ্না ইসরাফিল এর কাছ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা নিয়ে সে উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্বাচনে তার মনোনয়নপত্র উইড্রো করছে। সে পৌর নির্বাচনেও রমজান সাহেবের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা নিয়ে ইলেকশন বাদ দিয়ে সে দূরে দূরে থাকছে। সে যেভাবে লুচ্চামি করে, চাঁদাবাজি করে তাতে তো পার্টির দুর্নাম হয়। এজন্য আমরা চাই আতাকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হোক।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, আমরা মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র সমুহের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে বাছাই করেছি। তারপর ঘোষণা করেছি। যাদের মনোনয়পত্র বাতিল করা হয়েছে তাদের জন্য আপিলের বিধান রয়েছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ