মানিকগঞ্জে নতুন ঠিকানায় সুশৃঙ্খল ও আনন্দমুখর পরিবেশে চলছে ছনকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদান

🕙 প্রকাশিত : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৩:৩৩ পিএম

নদীভাঙনের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়া মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের ছনকা উচ্চ বিদ্যালয় নতুন ঠিকানায় স্বস্তিতে। ধলেশ্বরী নদীর ভাঙন থেকে বিদ্যালয়টিকে রক্ষা করতে নতুন স্থানে স্থানান্তরের পর সেখানে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও আনন্দমুখর পরিবেশে নিয়মিত চলছে পাঠদান কার্যক্রম। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়,মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের ছনকা গ্রামের কৃতী সন্তান ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো. শাহজাহান মাস্টার ২০১৫ সালে ধলেশ্বরী নদীর পূর্ব পাড়ে ছনকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধলেশ্বরী নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকায় একপর্যায়ে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব রক্ষায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, সংশ্লিষ্ট মহল ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নতুন স্থানে বিদ্যালয়টি স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়। ম্যানেজিং কমিটির ১৬ নভেম্বর ২০২৩ তারিখের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৩৬ খতিয়ানের ২৪৭ দাগে থাকা ৮২ শতাংশ জমিতে বিদ্যালয়টি স্থানান্তরের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়।

পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মহাপরিচালক ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তদন্ত শেষে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম পাড়ে ২৪৭ দাগের ৮২ শতাংশ জমিতে বিদ্যালয়টি স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়।

অনুমোদনের পর ২৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে বিদ্যালয়টি নতুন স্থানে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকেই নতুন ঠিকানায় নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চলছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২৩৫ জন শিক্ষার্থী এবং সরকারি বেতনভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৫ জন। প্রতিদিন শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর আগে বিদ্যালয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাকিবুল বলে, “আগের বিদ্যালয়টি নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। নতুন জায়গায় আসার পর আমাদের পড়াশোনার পরিবেশ অনেক ভালো হয়েছে। এখন নিয়মিত স্কুলে আসতে পারছি এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমেও অংশ নিতে পারছি।”

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফুন নাহার ছোয়া বলে, “নতুন বিদ্যালয়ের পরিবেশ খুবই সুন্দর। এখানে শিক্ষকরা আমাদের পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে উৎসাহ দেন। আমরা আনন্দের সঙ্গে ক্লাস করি এবং নিয়মিত স্কুলে আসতে ভালো লাগে।”

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পিতা পাল বলে, “নতুন জায়গায় বিদ্যালয় স্থানান্তর হওয়ায় আমাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হয়েছে নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারছি। শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও আমাদের অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।”

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী সূত্রধর বলে, “বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় আমরা অনেকটা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। নতুন জায়গায় বিদ্যালয় আসায় সেই ভয় কেটে গেছে। এখন সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারছি। আমরা চাই, বিদ্যালয়টি আরও ভালোভাবে এগিয়ে যাক।”

সহকারী শিক্ষক (হিন্দুধর্ম) সাগর শীল বলেন, “নদীভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি নিয়ে একটা সময় আমরা সবাই উদ্বিগ্ন ছিলাম। নতুন স্থানে স্থানান্তরের ফলে সেই সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে এবং সুন্দর পরিবেশে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।”

সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) সুমি আক্তার বলেন, “নতুন জায়গায় বিদ্যালয় স্থানান্তরের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করছি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে।”

সহকারী শিক্ষক (বাংলা) আঃ রহিম বলেন, “একসময় নদীভাঙনের কারণে বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এখন নতুন স্থানে বিদ্যালয় স্থানান্তর হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”

এ বিষয়ে ছনকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, নদীভাঙনের ভয়াবহতা থেকে বিদ্যালয়টিকে রক্ষা করে নতুন স্থানে স্থানান্তরের ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ