মানিকগঞ্জে চাঞ্চল্যকর লাইলী বেগম হত্যার রহস্য উদঘাটন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল ঘাতক গ্রেফতার

🕙 প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট, ২০২৬ । ১২:১০ পিএম

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ফসলি জমি থেকে উদ্ধার হওয়া লাইলী বেগম ওরফে ফাতেমার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঝটিকা অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত মো. আফছারকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান, নিহত লাইলী বেগম ওরফে ফাতেমার (৫৮) সঙ্গে গ্রেফতার আফছারের দীর্ঘ প্রায় ১৮ থেকে ১৯ বছরের সম্পর্ক ছিল। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন ও বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেফতার আফছারের বাড়ি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার মৈশলোহা গ্রামে। তিনি বর্তমানে ঢাকার পল্লবী থানার বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে সাটুরিয়া থানার নাহার গার্ডেন সংলগ্ন একটি নির্জন ফসলি জমিতে এক নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সাটুরিয়া থানা পুলিশ। এরপর নিহতের পরিচয় শনাক্ত ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমের নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালোর তত্ত্বাবধানে ডিবির এসআই মো. হিমেল হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল সাটুরিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও গ্রেফতার ব্যক্তির জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, গত ২৯ আগস্ট বিকেলে লাইলী বেগমকে নিয়ে আফছার ঢাকার সেনপাড়া পর্বতা এলাকা থেকে সাটুরিয়ায় আসেন। সন্ধ্যার পর তারা নয়ডঙ্গী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করেন। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে তারা নাহার গার্ডেনের অদূরে একটি নির্জন স্থানে যান।
সেখানে বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আফছার লাইলী বেগমের গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে আফছার পালিয়ে যান। তবে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন, ডিবির ওসি মানবেন্দ্র বালো এবং সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেনসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ