ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী, খুন, গুম হত্যাকারীরা দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

🕙 প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট, ২০২৬ । ১২:১৬ পিএম

ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, মাদক নির্মূলে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জুয়া, অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন ধরনের জুয়ার কারণে সমাজে অপরাধ বাড়ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের বিস্তার বন্ধ করতে হবে। মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো মাদকসেবী কিংবা মাদক ব্যবসায়ীকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ না থাকলে আমাদের কারও অস্তিত্ব থাকবে না। অনেক রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের মূল্য রক্ষা করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও ২৪শের গণতন্ত্র রক্ষায় যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যখাতে নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। বেসিক সরকার সরঞ্জাম এর নামে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হবে। রোগীদের খাবারের মান উন্নয়ন করা হবে। ডায়ালাইসিস রোগী ও শিশুদের জন্য পৃথক বেডসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে নতুনভাবে সাজিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। ইউনিয়ন পর্যায়েও স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক সেবা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল দায়িত্ব।

সভায় মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, মানিকগঞ্জ জেলাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ কবির জিন্নাহ, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মনিরুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি প্রতিরোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ