চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় মানিকগঞ্জ জেলায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। জেলার ১৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৩ হাজার ৩০৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮ হাজার ২২৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জেলায় মোট ৪০২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ৫ হাজার ৭৬ জন পরীক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর জেলার পাসের হার ছিল ৫৫ শতাংশ।
উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে সিংগাইর উপজেলা। সেখানে ২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২ হাজার ৪৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৫৯৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। উপজেলাটিতে পাসের হার ৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৯ জন।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩ হাজার ৯৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৫৯০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। জেলায় সর্বোচ্চ ২০২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে এই উপজেলায়।
সাটুরিয়া উপজেলায় ১ হাজার ৪৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯০৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। সেখানে পাসের হার ৬৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯ জন। হরিরামপুরে ১ হাজার ২৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৯২ জন পাস করেছে। উপজেলাটির পাসের হার ৬৩ দশমিক ১০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭ জন।
শিবালয় উপজেলায় ১ হাজার ৭৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৭৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। সেখানে পাসের হার ৫৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪ জন। ঘিওরে ১ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮০২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ জন।
অন্যদিকে, জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার দৌলতপুর উপজেলায়। সেখানে ১ হাজার ১৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬০৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন।
উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে পাসের হারে সিংগাইর এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ অর্জনের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা। জেলার মোট ৪০২টি জিপিএ-৫-এর মধ্যে ২০২টিই এসেছে সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে এ বছর পাসের হার বেড়েছে। আগামী বছরগুলোতে এই ধারা বজায় রেখে ফলাফল আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

