সম্পর্কও নয়, বিচ্ছেদও নয়—‘সিচুয়েশনশিপ’ থেকে মুক্তির উপায়!

🕙 প্রকাশিত : ৩০ জুলাই, ২০২৬ । ৭:০৮ এএম

স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছাড়া অনিশ্চয়তায় গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ক, যা বর্তমানে ‘সিচুয়েশনশিপ’ নামে পরিচিত, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা অনেকের জন্যই মানসিকভাবে কঠিন হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মসম্মান ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে এমন সম্পর্ক থেকে সময়মতো সরে আসা জরুরি।

ডেটিং বিশেষজ্ঞ ডেভিন সিমোনের মতে, এ ধরনের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক মস্তিষ্কে মাদকের আসক্তির মতো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যা স্নায়ুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার কয়েকটি কার্যকর পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক লাইফস্টাইল সাময়িকীতে।

অস্বস্তিকে স্বীকার করুন
যদি সম্পর্কে বারবার অবহেলা, অনিশ্চয়তা বা মানসিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়, তবে সেই অনুভূতিকে অস্বীকার না করে মেনে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে সম্পর্ক কেবল কষ্ট দেয়, তা থেকে বেরিয়ে আসাই ভালো সিদ্ধান্ত।

স্পষ্টভাবে কথা বলুন
সম্পর্ক শেষ করার আগে সরাসরি ও পরিষ্কারভাবে নিজের অবস্থান জানানো উচিত। কাউকে জোর করে সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিতে রাজি করানোর চেষ্টা না করে নিজের চাওয়া স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে জানিয়ে দিন, আপনি একটি স্থায়ী ও স্পষ্ট সম্পর্ক চান।

আত্মসম্মানকে অগ্রাধিকার দিন
দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও যদি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে বা দেখা করার পরিকল্পনা করতেও দ্বিধা তৈরি হয়, তবে সেটিকে সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। নিজের চাওয়া-পাওয়াকে অবহেলা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজের যত্ন নিন
নিজের পছন্দের কাজ, শখ ও ব্যক্তিগত উন্নয়নে সময় দিন। আত্মভালোবাসা বাড়লে অন্যের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য নিজেকে ছোট করার প্রবণতাও কমে আসে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দূরত্ব বজায় রাখুন
সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর প্রাক্তনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর রাখা মানসিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হতে পারে। প্রয়োজনে তাকে আনফলো বা ব্লক করে নিজের মানসিক শান্তি বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যতের জন্য নতুন মানদণ্ড তৈরি করুন
পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এমন সম্পর্ক বেছে নিন, যেখানে পারস্পরিক সম্মান, স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি এবং মূল্যায়ন থাকবে। অবহেলার পরিবর্তে যে মানুষ আপনাকে সম্মান ও গুরুত্ব দেয়, তার সঙ্গেই সম্পর্ক গড়ে তোলাই অধিক স্বাস্থ্যকর।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ