মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটারে অ্যাম্বুল্যান্স, চালু হচ্ছে সমন্বিত দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবা

🕙 প্রকাশিত : ২০ জুলাই, ২০২৬ । ৫:৫৯ এএম

দেশে প্রথমবারের মতো মহাসড়কে চালু হতে যাচ্ছে সমন্বিত দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবা (পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স)। এ ব্যবস্থার আওতায় মহাসড়কের প্রতি ১০ কিলোমিটার অন্তর একটি করে অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হবে, যাতে দুর্ঘটনার পর দ্রুত আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হয়।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) চলতি মাসের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা করেছে।

প্রথম পর্যায়ে জয়দেবপুর চৌরাস্তা–টাঙ্গাইল–রাজশাহী, জয়দেবপুর চৌরাস্তা–ময়মনসিংহ এবং সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল–রংপুর করিডরে সেবাটি চালু হবে। এসব সড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটার অন্তর মোট ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) অ্যাম্বুল্যান্স মোতায়েন থাকবে। দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টা, অর্থাৎ ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার আওতায় আনাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

প্রতিটি অ্যাম্বুল্যান্সে চালকের পাশাপাশি একজন প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক বা মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকবেন। তারা ঘটনাস্থলেই আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেবেন এবং দ্রুত নিকটস্থ উপযুক্ত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

পুরো সেবাটি একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পরিচালিত হবে। প্রতিটি অ্যাম্বুল্যান্সে জিপিএস ট্র্যাকার সংযুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা হবে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুল্যান্সটি ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে। ৬০টি অ্যাম্বুল্যান্সের মধ্যে কয়েকটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে।

দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক সহায়তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কসংলগ্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাদের ফার্স্ট এইড বক্সও সরবরাহ করা হবে, যাতে অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক আহত ব্যক্তি প্রাণ হারান বা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বের শিকার হন। নতুন এ ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় কল সেন্টার, জিপিএস-ভিত্তিক অ্যাম্বুল্যান্স ট্র্যাকিং, প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে দ্রুত সাড়া দেওয়ার একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।

এ সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। আহত ব্যক্তি বা তার পরিবারের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যয় প্রকল্প থেকেই বহন করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল নিশ্চিত করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্টের পরিচালক ও সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাব্বির হাসান খান জানান, চলতি মাসেই ৬০টি অ্যাম্বুল্যান্সের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষামূলক এ উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও একই ধরনের দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবা চালু করা হবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ