ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বেপরোয়া চলাচল ও ঘন ঘন দুর্ঘটনার অভিযোগ তুলে সেলফী পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্দোলনকারীরা। অবিলম্বে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানের কাছে এ দাবিতে স্মারকলিপি দেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও আন্দোলনকারীরা।
স্মারকলিপিতে সেলফী পরিবহনের দুর্ঘটনার ইতিহাস পর্যালোচনার পাশাপাশি যানবাহনের ফিটনেস, প্রকৃত রুট পারমিটের সংখ্যা, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অনুমোদিত সংখ্যার তুলনায় বাস্তবে সেলফী পরিবহনের অনেক বেশি বাস মহাসড়কে চলাচল করছে। চালকদের অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিংয়ের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সেলফী পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন ২৯ আগস্ট একই এলাকায় সেলফী পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি পিজুস পাইক বলেন, ‘গত ২৯ আগস্ট মানববন্ধনের পর আজ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। সেলফী পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল করা না হলে আন্দোলনকারীরা সবাই মিলে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হব।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতান জানান, বিষয়টি দ্রুত আগামী মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় তোলা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় মহাসড়কে আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।
তিনি আরও জানান, সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি না হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্দোলনকারীরা বলছেন, মহাসড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সেলফী পরিবহনের চলাচল, যানবাহনের ফিটনেস এবং চালকদের যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। তাদের দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন তারা।

