নৌযান শুমারি ২০২৬ বিষয়ক র‌্যালি ও আলোচনা সভা

🕙 প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট, ২০২৬ । ৬:১৫ এএম

নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ পরিচালনা করা হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সহযোগিতায় আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী এই শুমারি অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত কার্যক্রম উপলক্ষ্যে আজ (১৯ আগস্ট) সকাল ১০:০০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মানিকগঞ্জ-এর সামনে হতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয় এবং র্যালি পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মানিকগঞ্জের সম্মেলন কক্ষে ট্রেইনিং (নৌযান শুমারির ট্রেইনিং- ১৫ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬) পরবর্তী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত পরিচালনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব নাজমুন আরা সুলতানা, জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জ। উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার, মানিকগঞ্জ এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জনাব মোঃ মিনার উদ্দীন, উপপরিচালক, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, মানিকগঞ্জ।

নৌযান শুমারি ২০২৬ বাস্তবায়নের প্রস্তুতির জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), নৌপুলিশ, মৎস্য অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জ মহোদয় পায়রা উড়িয়ে র্যালির যাত্রা শুরু করেন। নৌযান শুমারি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে গণনাকারীগণ প্লাকার্ড ও নৌযান শুমারির লোগো সংবলিত ছাতা নিয়ে স্লোগান ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে সামনে এগিয়ে যান। উৎসবমূখর পরিবেশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মানিকগঞ্জ-এর সামনে এসে র্যালি শেষ হয় এবং আলোচনা সভা শুরু হয়।

র্যালি পরবর্তী আলোচনা সভায় জানানো হয় দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানসমূহের ডাটাবেইজ প্রবর্তন এবং ডাটাবেইজ প্রবর্তনের মাধ্যমে ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত নৌযানসমূহকে Inland Shipping Ordinance, 1976 এবং Merchant Shipping Ordinance, 1983 মোতাবেক নিবন্ধনসহ অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যবহারের লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃক বিবিএস এর মাধ্যমে নৌযান শুমারি পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সকল সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযান এবং ডাম্ববার্জ ও অন্যান্য যে কোন নৌযান যা যন্ত্রচালিত নয়, তবে অন্য কোন যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কায় চালিত হয়, এরূপ সকল নৌযানসমূহের ডাটাবেইজ প্রণয়ন এবং নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন ও পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যানিক তথ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নৌযান শুমারি পরিচালনা করা হবে। বাংলাদেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয়, অভ্যন্তরীণ এবং অন্যান্য (বিভিন্ন থিম পার্ক, ওয়াটার পার্ক বা রিসোর্টের কৃত্রিম লেক বা জলাশয়ে বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত ইঞ্জিন চালিত ছোট-বড় নৌযান বা স্পিডবোট) জলসীমায় চলাচলকারী সকল ইঞ্জিনচালিত নৌযান, ডাম্ব বার্জ (Dumb Barges) এবং অন্য যেকোনো নৌযান যা নিজস্ব ইঞ্জিনে চলে না, কিন্তু অন্য কোনো যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কা দিয়ে চালানো হয়, এরূপ সকল নৌযান শুমারিতে গণনা করা হবে। ।অপরদিকে সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সকল নৌযান/জাহাজ এবং তাদের মালিকানাধীন যে সকল নৌযান বর্তমানে অন্যান্য বাহিনী বা সংস্থার কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে, সেগুলো এই নৌ-শুমারির আওতার বাইরে থাকবে এবং সাধারণ নৌকা যা ইঞ্জিনচালিত নয়; তা শুমারির আওতার বাইরে থাকবে।

নৌযান ঘাটসমূহের সঠিক অবস্থান ও নৌযানের সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য গত ৪-১৭ মে ২০২৬ সময় লিস্টিং অপারেশন পরিচালনা করা হয়। লিস্টিং অপারেশনের মাধ্যমে একজন লিস্টার লিস্টিং ম্যাপে ঘাটের অবস্থান নির্ণয় করেন এবং CAPI Apps এর মাধ্যমে নৌযান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যাদি এন্ট্রি প্রদান করেন। লিস্টিং অপারেশন পরিচালনার সময়ে প্রকল্প দপ্তর হতে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে জোন ও গণনা এলাকা গঠনের নির্দেশনা প্রদান করা হয় । জেলা ও উপজেলা সমন্বয়কারীগণ লিস্টারদের সহায়তা নিয়ে জোন ও গণনা এলাকা গঠন করেন। এক্ষেত্রে তারা প্রকল্প দপ্তর হতে প্রদানকৃত লিস্টিং এরিয়া ম্যাপে জোন ও গণনা এলাকা গঠন করেন এবং হালনাগাদকৃত ম্যাপ সমূহ প্রকল্প দপ্তরে জমা প্রদান করেন। এছাড়া, ইন্টিগ্রেটেড সেন্সাস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ICMS) এ তথ্য এন্ট্রি করা হয়।
২য় জোনাল অপারেশনের মাধ্যমে গণনা এলাকায় ম্যাপের সঠিকতা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রদান করে মানিকগঞ্জ জেলাকে ৭টি জোনে বিভক্ত করা হয়েছে, যেখানে ৫১ জন গণনাকারী ১২২টি ঘাটে ১১৫টি গণনা এলাকায় ২৩৮৩ টি জাহাজ ও ১০৫৩ টি খানাসহ মোট ৩৪৩৬ টি নৌযানের তথ্য পাওয়া গেছে। উপপরিচালক, জেলা পরিসংখ্যান কর্যালয়, মানিকগঞ্জ কর্তৃক গত ১৫ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬খ্রি. সময়ে ৫১ জন গণনাকারী ও ৭ জন জোনাল অফিসারদের জন্য ৩ দিনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণ পরবর্তী মেধা-যাচাই পরিক্ষায় ৩ জন গণনাকারীকে উক্ত সভার মাধ্যমে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
সর্বোপরি পুরস্কার প্রদান ও মাঠপর্যায়ে শুমারি কার্যক্রম সুষ্ঠু, নির্ভুল ও সময়মতো সম্পন্ন করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ