দুই যুগ পরও অমলিন ব্রাজিলের পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি

🕙 প্রকাশিত : ১ জুলাই, ২০২৬ । ৮:১৫ এএম

বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিল একটি আবেগের নাম। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির হলুদ জার্সি, সাম্বা ফুটবল এবং অসংখ্য কিংবদন্তির গল্প ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ২০০২ সালের ৩০ জুন বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসে পঞ্চম শিরোপা যোগ করেছিল সেলেসাওরা। সেই ঐতিহাসিক অর্জনের দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে বুধবার (১ জুলাই) স্মৃতিচারণ করেছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)।

এর আগে ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০ ও ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ জিতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল ব্রাজিল। সুইডেনে কিশোর পেলের হাত ধরে প্রথম শিরোপা, চিলিতে টানা দ্বিতীয় বিশ্বজয়, মেক্সিকোয় ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল নিয়ে তৃতীয় মুকুট এবং যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার পর চতুর্থ শিরোপা—প্রতিটি অর্জনই ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

২০০২ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল জাপানের ইয়োকোহামা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। সেখানে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। ম্যাচের নায়ক ছিলেন কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড রোনালদো নাজারিও। দ্বিতীয়ার্ধে তার করা জোড়া গোলেই উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো ব্রাজিল।

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে ৩-০ গোলে হেরে শিরোপা হারিয়েছিল ব্রাজিল। সেই ম্যাচের আগে রোনালদোর রহস্যময় অসুস্থতা এখনও ফুটবল ইতিহাসে আলোচিত। পরবর্তীতে একাধিক গুরুতর হাঁটুর চোটে অনেকে মনে করেছিলেন তার ক্যারিয়ার হয়তো শেষ হয়ে গেছে। তবে দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর ২০০২ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন তিনি।

সেই আসরে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন রোনালদো। আর ফাইনালে জোড়া গোল করে নিশ্চিত করেন ব্রাজিলের পঞ্চম বিশ্বকাপ।

২০০২ সালের ব্রাজিল দলকে এখনও ইতিহাসের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনহোকে নিয়ে গড়া ‘থ্রি আর’ ছিল প্রতিপক্ষের জন্য বড় আতঙ্ক। মাঝমাঠে ছিলেন গিলবার্তো সিলভা ও ক্লেবারসন। রক্ষণে লুসিও, এডমিলসন ও রকে জুনিয়র, আর গোলবার সামলেছেন মার্কোস। কোচ লুইজ ফেলিপে স্কোলারির অধীনে দলটি পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে খেলেছিল আত্মবিশ্বাসী ও কার্যকর ফুটবল।

সেই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের যাত্রা ছিল নিখুঁত। গ্রুপ পর্বে তুরস্ক, চীন ও কোস্টারিকাকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে তারা। এরপর নকআউট পর্বে বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড ও তুরস্ককে বিদায় জানিয়ে ফাইনালে ওঠে। ফাইনালেও জার্মানিকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সাতটি ম্যাচই জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল কীর্তি গড়ে ব্রাজিল।

ফাইনালের প্রথমার্ধে জার্মান গোলরক্ষক অলিভার কান একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে ব্রাজিলকে হতাশ করেছিলেন। তবে ৬৭তম মিনিটে রিভালদোর শট কান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে ফিরতি বলে গোল করেন রোনালদো। এরপর ৭৯তম মিনিটে ক্লেবারসনের পাস থেকে রিভালদো বল ছেড়ে দিলে ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রোনালদো। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের পঞ্চম বিশ্বকাপ।

২০০২ সালের সেই শিরোপার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। এরপর ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেও নতুন করে বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছে ব্রাজিল। তবে পঞ্চম শিরোপার পর আর বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তুলতে পারেনি সেলেসাওরা। তবুও ২০০২ সালের সেই সাফল্য এখনও ব্রাজিলিয়ানদের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে আছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ