আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ পাটুরিয়া ও আরিচা ফেরিঘাট হয়ে বাড়ি ফিরছেন স্বস্তিতে। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও এবার ঘাট এলাকায় দীর্ঘ অপেক্ষা কিংবা তীব্র ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়নি।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই পাটুরিয়া ও আরিচা ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। তবে ঘাটে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই যানবাহন ফেরিতে উঠতে পারছে এবং সাধারণ যাত্রীরাও টিকিট কেটে নির্বিঘ্নে লঞ্চে নদী পার হচ্ছেন।
তবে সকাল শেষে বেলা ১১টার দিকে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা ফেরি চলাচল কিছুটা ব্যাহত হয়। এতে নারী ও শিশু যাত্রীদের সাময়িক দুর্ভোগে পড়তে হলেও আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আবারও ফেরি চলাচল শুরু হয় এবং যাত্রীরা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ঘাট এলাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত, র্যাব, নৌ-পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
পরিবার নিয়ে ফরিদপুরে ঈদ করতে যাওয়া মো. কাদের মিয়া বলেন, “বছরে দুইবার ঈদে গ্রামের বাড়ি যাই। সাভার থেকে বাসে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত এসেছি। রাস্তায় বড় কোনো যানজট ছিল না। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রী ওঠানামার কারণে কিছুটা ধীরগতি ছিল। আশা করছি ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি পৌঁছাতে পারব।”
কুষ্টিয়াগামী যাত্রী হাসান মিয়া বলেন, “আগে পাটুরিয়া ঘাটে অনেক ভোগান্তি ছিল। এখন সেই চিত্র বদলেছে। বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেছি, তবে সেটাও আনন্দের অংশ মনে হয়েছে। স্বস্তিতে ঘাট পার হতে পারছি।”
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে পর্যাপ্ত ফেরি চলাচল করছে। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ থাকলেও ঘাট এলাকায় কোনো বড় ধরনের ভোগান্তি নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যেই যানবাহন ও যাত্রীরা নদী পার হতে পারছেন।
এদিকে জেলা পুলিশও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ অংশে চার শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ফেরিঘাট এলাকায় সাদা পোশাকেও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, যাতে যাত্রীরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন।

