মঙ্গলবার

২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবতার বাতিঘর খান পরিবারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ এলাকাবাসীর

🕙 প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৬ । ৬:০১ পূর্বাহ্ণ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তী জনপদের মানুষের কাছে আস্থা, মানবতা ও সমাজসেবার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে সুপরিচিত খান পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে পরিবারটি এলাকায় বিশেষ সুনাম, মর্যাদা ও মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছে। তবে সম্প্রতি একটি মহল থেকে পরিবারটির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হরিরামপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীসংলগ্ন ভাঙনকবলিত চরাঞ্চলে বছরের পর বছর ধরে খান পরিবার মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন, আর্থিক সংকট কিংবা সামাজিক বিপর্যয়ের সময় এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পরিবারটি বারবার মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, খান পরিবারের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম কেবল সাময়িক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যেও পরিবারটি নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শীত মৌসুমে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে খাদ্যসামগ্রী ও উপহার বিতরণ, অসুস্থ ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন দুর্যোগকবলিত পরিবারকে সহযোগিতা প্রদানের মতো কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে।
বিশেষ করে হরিরামপুর উপজেলার ধুলশুড়া এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙনরোধে খান পরিবারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। নদীভাঙনের কারণে যখন অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল, তখন ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পরিবারটি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। স্থানীয়দের মতে, তাদের এ সহযোগিতা বহু পরিবারকে মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আর্থিক সহায়তার বাইরেও খান পরিবার সমাজের স্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তাদের নিজস্ব উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা, চরাঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, মসজিদ ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা এবং এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার মতো উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বহু পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হয়েছে বলে জানান তারা।

ধুলশুড়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খান পরিবারের মানবিক কর্মকাণ্ড নতুন কিছু নয়; বরং এটি তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পরিবারটি মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখাই যেন তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হয়ে উঠেছে।
এমন একটি পরিবারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে যেসব অভিযোগ ও নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, খান পরিবারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, দানশীলতা এবং এলাকাব্যাপী সম্মান-প্রতিপত্তিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,
“আমরা বহু বছর ধরে দেখছি, এলাকার মানুষের বিপদ-আপদে খান পরিবার সবার আগে এগিয়ে আসে। যাদের সহায়তায় অনেক অসহায় মানুষ উপকৃত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আরেকজন বাসিন্দা বলেন,
“মানুষের জন্য যারা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে, তাদের সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা বাস্তবে তাদের কাজ দেখেছি। তাই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

এ বিষয়ে খান পরিবারের উত্তরসূরি আকিবুল খান বলেন,
“আমরা কোনো প্রচার কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে মানুষের পাশে দাঁড়াই না। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং পূর্বপুরুষদের মানবসেবার ঐতিহ্য ধরে রাখতেই আমরা সাধ্যমতো মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। এই এলাকার মানুষ আমাদের আপনজন। তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই আমাদের দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন,
“একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলেও আমরা আমাদের মানবিক কার্যক্রম থেকে সরে আসবো না। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকবো। মানুষের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ও অনুপ্রেরণা।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, একটি সম্মানিত পরিবারকে ঘিরে যেকোনো অভিযোগ বা বিতর্কের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা অনাকাঙ্ক্ষিত। তাদের মতে, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ব্যক্তি বা পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে সব ধরনের বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে এবং মানবতার সেবায় নিবেদিত খান পরিবারের সামাজিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত হবে। তাদের বিশ্বাস, মানুষের কল্যাণে নিবেদিত একটি পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার কখনোই সত্যকে আড়াল করতে পারবে না।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ