মঙ্গলবার

২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদে পশু পরিবহন ও কোরবানিতে কঠোর নজরদারি, আইন ভাঙলে জেল-জরিমানা

🕙 প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৬ । ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু পরিবহন ও কোরবানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে মানার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধ, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগে জোর দেওয়া হয়েছে। আইন অমান্য করলে কারাদণ্ড ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এবার কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখের বেশি পশু অতিরিক্ত রয়েছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক পশু পরিবহনের সময় ট্রাকে গাদাগাদি ও পশুর প্রতি অমানবিক আচরণ ঠেকাতে ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২১’ এবং ‘প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯’-এ বেশ কিছু বাধ্যতামূলক নির্দেশনা রয়েছে।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা যাবে না। জবাইয়ের আগে পশুকে কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা বিশ্রামে রাখতে হবে। আতঙ্কিত বা উত্তেজিত অবস্থায় পশু জবাই নিষিদ্ধ। এছাড়া পশুর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগে চামড়া ছাড়ানো বা শরীরের কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। কোরবানির আগে প্রাণিচিকিৎসকের মাধ্যমে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোরও নির্দেশনা রয়েছে।

পশু পরিবহনের ক্ষেত্রেও রয়েছে কঠোর নিয়ম। একটি ট্রাকে অতিরিক্ত পশু বহন করা যাবে না। প্রতিটি পশুর শরীরের দুই পাশে অন্তত ১৫ সেন্টিমিটার এবং মাথা ও লেজের দিক থেকে অন্তত ৩০ সেন্টিমিটার ফাঁকা জায়গা রাখতে হবে, যাতে পশু স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারে।

এছাড়া ১০০ কিলোমিটার বা তিন ঘণ্টার বেশি পথ অতিক্রমের ক্ষেত্রে বিরতি দেওয়া বাধ্যতামূলক। পশুবাহী যানবাহনের চালকের কাছে মালিকের নাম-ঠিকানা, পশুর সংখ্যা ও গন্তব্য উল্লেখ করে তথ্য কার্ড রাখতে হবে।

আইন অনুযায়ী, পশু ওঠানো-নামানোর সময় র‌্যাম্প ব্যবহার করতে হবে। টেনেহিঁচড়ে নামানো বা জোর করে লাফ দিতে বাধ্য করা যাবে না। পশুবাহী গাড়ির মেঝে সমতল ও নিরাপদ হতে হবে। একই গাড়িতে ভিন্ন প্রজাতির পশু একসঙ্গে পরিবহনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

‘প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯’-এর ১৬ ধারায় বলা হয়েছে, পশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। একই অপরাধ পুনরায় করলে শাস্তি বেড়ে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ