দেশে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন এই দাম চলতি বছরের ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী ইউনিটপ্রতি আলাদা আলাদা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে আবাসিক গ্রাহকদের বিভিন্ন ধাপে বিদ্যুতের খরচ বেড়েছে।
বিইআরসি ঘোষিত নতুন দর অনুযায়ী, লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রথম ৫০ ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ৩২ পয়সা। এছাড়া শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ১৮ পয়সা, ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ৮ টাকা ৫০ পয়সা এবং ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত ৯ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারের জন্য প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ৬২ পয়সা, ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত ১৫ টাকা ১ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে প্রতি ইউনিট ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা গুনতে হবে গ্রাহকদের।
নতুন মূল্যহার কার্যকরের ফলে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি ইউনিট ৭ টাকা থেকে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর সঞ্চালন বা হুইলিং চার্জও বাড়ানো হয়েছে। নতুন হারে এই চার্জ প্রতি ইউনিট ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা হয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, জুন মাসের বিল থেকেই নতুন এই মূল্যহার কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। তবে বিভিন্ন গ্রাহক শ্রেণির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ২০ ও ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত গণশুনানির পরিপ্রেক্ষিতে এবং বাজেট বাস্তবায়নের সুবিধার্থে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

