গ্রাহক ও পাইকারি—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন ঘোষণায় গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি সঞ্চালন চার্জও বাড়ানো হয়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে বিইআরসি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে লাইফলাইন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ ব্যয়ে নতুন চাপ তৈরি হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ দশমিক ০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে গড়ে ৮ দশমিক ৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন খরচ ইউনিটপ্রতি ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩৯ পয়সা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্য সমন্বয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। এতে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ প্রায় ১২ দশমিক ৯১ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) সঞ্চালন খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও কমিশন সবদিক বিবেচনা করেই নতুন দর নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এবার নতুন করে মূল্য বৃদ্ধির ফলে শিল্পখাতের পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

