মানিকগঞ্জের ঘিওরে জমি বিরোধের জেরে স্কুলশিক্ষক ও সাংবাদিককে কুপিয়ে জখমের মামলার প্রধান আসামি চঞ্চল কুমার পালকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ( ১৬ জুন) মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক… তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার দ্বিতীয় আসামি চঞ্চলের মা সরস্বতী রানী পাল এর আগে জামিন পেয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জন রায়।
গত ৩০ মে বিকেলে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এই হামলা হয়। আহত পংকজ কুমার পাল তরা রমজান আলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার ছোট ভাই পিযুষ পাল জাতীয় দৈনিক ‘ঢাকা ডাক’ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি। এই ঘটনায় তাদের বোন শিখা রানী পাল বাদী হয়ে ঘিওর থানায় মামলা করেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাহাদুরপুর মৌজার একটি জমির মালিকানা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি আদালত থেকে ভুক্তভোগীদের বাবা পরিতোষ পালের পক্ষে রায় আসে। তারা জমিটি ভোগদখল করছিলেন। আদালতের এই রায়ের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবেশী চঞ্চল পাল পরিকল্পিত হামলা চালায়।
ঘটনার দিন বিকেলে ভুক্তভোগী দুই ভাই নিজেদের বাড়ির আঙিনায় জঙ্গল পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় চঞ্চল কুমার পাল, তার মা সরস্বতী রানী পাল ও অজ্ঞাতনামা আরও চারজন লাঠিসোটা ও ধারালো চাকু নিয়ে তাদের বাড়িতে ঢোকে। তারা অকারণে পিযুষ পালের সঙ্গে ঝগড়া ও গালিগালাজ শুরু করে। গালিগালাজ করতে নিষেধ করায় চঞ্চল হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো চাকু দিয়ে পিযুষের মাথা, ঘাড় ও গলায় এলোপাতাড়ি কোপায়। সরস্বতী রানী পাল তারকাটাযুক্ত কাঠের লাঠি দিয়ে পিযুষের পিঠে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। পিযুষের চিৎকার শুনে বড় ভাই পংকজ কুমার পাল বাঁচাতে এগিয়ে এলে চঞ্চল তার বুকেও চাকু দিয়ে কোপ মারে। দুই ভাই মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামিরা তাদের লাথি ও কিলঘুষি মারে। মারামারির সুযোগে চঞ্চল সাংবাদিক পিযুষের গলা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। গ্রামবাসীরা ছুটে এলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা দুই ভাইকে উদ্ধার করে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তারা এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন ছিলেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক পিযুষের মাথা, হাত ও ঘাড়ে এবং পংকজের বুকে একাধিক সেলাই দিয়েছেন।
ঘটনার পর বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও মূল আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল ভুক্তভোগী পরিবার। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আসামিরা অনবরত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও এলাকাবাসী। প্রধান আসামি কারাগারে যাওয়ায় এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও স্থানীয়রা এই হামলার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

