মঙ্গলবার

১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংস্কারের আগেই বেহাল চাটখিল-খিলপাড়া সড়ক, অনিয়মের অভিযোগে কাজ বন্ধ

🕙 প্রকাশিত : ১০ মে, ২০২৬ । ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ

নোয়াখালীর চাটখিল-খিলপাড়া সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা যায়, চাটখিল থেকে খিলপাড়া হয়ে দত্তপাড়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ বছর ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় থাকায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে চাটখিল থেকে খিলপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রথম দফায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে ‘জে.বি এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের তথ্যসংবলিত কোনো সাইনবোর্ড না টাঙিয়েই কাজ শুরু করে। এছাড়া সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, কাজ শেষ হওয়ার আগেই ছায়ানী টগবাসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও প্যালিসাইডিংও উঠে গেছে। গত বুধবার রাতে খিলপাড়া দক্ষিণ বাজার এলাকায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।
সড়কটিতে চলাচলকারী সিএনজি চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, “সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার আগেই কয়েক জায়গায় সড়ক দেবে গেছে। এতে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ বাড়ছে।”
শিক্ষার্থী আবুল হোসেন ও ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, “কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এভাবে নির্মাণ করলে সড়কটি দুই বছরও টিকবে না। আমরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চাই।”
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মোরশেদ আলম দাবি করেন, তিনি এলাকাবাসীর অভিযোগের বিষয়টি শুনেছেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কার্যাদেশ অনুযায়ী মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এ বিষয়ে নোয়াখালী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, “সড়কের পাশে অনেক পুকুর রয়েছে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে পুকুরপাড় ধসে যাওয়ায় সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজ এখনো চলমান রয়েছে। ধসে পড়া অংশসহ অবশিষ্ট কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে।”

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ