২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের সেই ভয়াবহ দিনটি বদলে দিয়েছিল হাজারো মানুষের জীবন। আটতলা ভবন ধসে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৪ জনেরও বেশি পোশাক শ্রমিক, আহত হন আরও দুই হাজারের বেশি। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই ক্ষত আজও শুকায়নি—ভুক্তভোগীদের জীবনে রয়ে গেছে দুঃসহ স্মৃতি, অনিশ্চয়তা আর অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির বোঝা।
প্রতি বছর দিবস ঘিরে নানা কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও বাস্তবে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের চিত্র সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তাদের দাবি, এখনও অনেকেই ন্যায্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত।
দুর্ঘটনায় ডান হাত হারানো সাদ্দাম হোসেন বলেন, সীমিত সহায়তা পেলেও তা চিকিৎসার খরচ মেটাতেই শেষ হয়ে গেছে। কর্মক্ষমতা হারানোর পর বহুবার চাকরির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, “আমাদের বারবার সামান্য সহায়তা নয়, স্থায়ী পুনর্বাসন দরকার।”
মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া শ্রমিক শিলার জীবনও থমকে গেছে সেই দিনেই। ভারী কাজ করতে পারেন না, নিয়মিত ওষুধের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাভাবে সন্তানের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে। একইভাবে পা ভেঙে পঙ্গুত্ব বরণ করা নিলুফা বেগম জানান, অনেক আহত শ্রমিক এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ধসের আগের দিন ভবনে ফাটল দেখা গেলেও কাজ বন্ধ না করার চাপের কথাও জানান অনেক শ্রমিক। তাদের অভিযোগ, বাধ্য হয়ে কাজে গিয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দেশ-বিদেশ থেকে সহায়তা এলেও তার পুরোটা প্রকৃত শ্রমিকদের হাতে পৌঁছায়নি। রানা প্লাজা সার্ভাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন বলছে, শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে অনেকেই সুবিধা নিয়েছে, অথচ প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা এখনও বঞ্চিত।
এদিকে মামলার অগ্রগতি ধীরগতির হওয়ায় ন্যায়বিচার নিয়েও হতাশা বাড়ছে। অনেক অভিযুক্ত এখনও আইনের বাইরে রয়েছে বলে দাবি তাদের।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, রানা প্লাজার জায়গায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তবে ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন একটাই—কবে বাস্তবে মিলবে প্রতিশ্রুত পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার? এক যুগ পরও তাদের জীবনে সেই অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না।

