আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করতে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রাজপথের আন্দোলন থেকে উঠে আসা দলটি এবার মাঠ পর্যায়ে অবস্থান সুসংহত করতে বড় দলগুলোর ‘অভিমানী’ ও ‘বঞ্চিত’ নেতাকর্মীদের নিজেদের দলে টানার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষ করে বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী কিন্তু বর্তমানে কোণঠাসা নেতাদের ওপর এনসিপির বাড়তি নজর রয়েছে। পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন—এমন আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের জন্যও দলটির দরজা খোলা রাখা হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসা এনসিপি বর্তমানে ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালালেও, এখন তাদের মূল লক্ষ্য উপজেলা নির্বাচনে কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে বড় দলগুলোর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামে বিএনপির সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসভবনে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর বৈঠক রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। একইসঙ্গে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও যুবদলের সাবেক নেতা ইসহাক সরকারের মতো পরিচিত মুখদের এনসিপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন রয়েছে।
দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এ প্রক্রিয়াকে ‘দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাজনীতিতে যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদের এনসিপি স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, যোগ্য কিন্তু অবমূল্যায়িত নেতাদের জন্য বিকল্প প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চায় দলটি।
এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, দলে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। অতীতের অপরাধ বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকলে যে কেউ দলটির আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে যোগ দিতে পারবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় দলগুলোর ভেতরের অসন্তোষ ও কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে এনসিপি যদি এই কৌশল সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্য: ইত্তেফাক

