বুধবার

১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেট সংকটে হরিরামপুরের প্রাথমিক শিক্ষা, বাড়ি থেকে খাতা এনে পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা

🕙 প্রকাশিত : ৭ মে, ২০২৬ । ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বাজেট সংকটের কারণে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার খাতা সরবরাহে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রধান শিক্ষকেরা। ফলে অনেক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে খাতা এনে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলার ৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ মে থেকে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তবে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় খাতা সরবরাহ করতে পারেনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে খাতা নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। কোথাও আবার প্রধান শিক্ষক নিজ খরচে খাতা কিনে দিচ্ছেন, আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে স্থানীয় হিতৈষী ব্যক্তিদের অনুদানে খাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যালয়ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (স্লিপ-এসএলআইপি) বাবদ প্রতিটি বিদ্যালয়ে ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ভ্যাট ও আইটি কেটে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাতে পেয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ ২০২৫ সালের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত পরীক্ষার আগের বকেয়া খরচ পরিশোধ করতেই সেই অর্থ শেষ হয়ে যায়। ফলে চলতি বছরের প্রথম সাময়িক পরীক্ষার খাতার খরচ জোগাতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষকরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক প্রধান শিক্ষক নিজের পকেটের টাকা দিয়ে পরীক্ষার খাতার ব্যবস্থা করছেন। কোথাও স্থানীয় দাতাদের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। আবার অনেক শিক্ষার্থী নিজ দায়িত্বে বাড়ি থেকে খাতা এনে পরীক্ষা দিচ্ছে।

এ ঘটনায় অভিভাবকসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা উজানপাড়া গ্রামের অভিভাবক রেজাউল করিম চুন্নু বলেন, “আমার মেয়ে ভাদিয়াখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আগে কখনও শুনিনি শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে পরীক্ষার খাতা নিয়ে আসবে। শিক্ষকরা বলছেন, বিদ্যালয়ের ফান্ডে টাকা নেই। শিক্ষা খাতের জন্য এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমরা চাই সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াক।”

দিয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, “স্লিপের বরাদ্দ থেকে হাতে পাওয়া টাকা আগের পরীক্ষার ঋণ পরিশোধ করতেই শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন পরীক্ষা নেওয়ার মতো বাজেট নেই। আবার পরীক্ষার ফিও নেওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মাধ্যমে খাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

বাল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ জানান, বিদ্যালয়ের আগের খরচের ঋণ এখনও পরিশোধ হয়নি। তিনি বলেন, “প্রশ্নপত্র ছাপানোর খরচ আমরা নিজেরা বহন করছি। আর খাতা স্থানীয় একজন ব্যক্তি অনুদান হিসেবে দিয়েছেন।”

গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নায়েব আলী বলেন, “বিদ্যালয়ের এখনও প্রায় ১০ হাজার টাকা ঋণ রয়েছে। তাই অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের খাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

ঝিটকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোক্তার হোসেন বলেন, “বিদ্যালয়ের ফান্ড না থাকায় নিজের পকেটের টাকা দিয়ে খাতা কিনে পরীক্ষা নিচ্ছি। গত দুই বছর ধরে বরাদ্দ অনেক কমে গেছে। এতে বছরে তিনটি পরীক্ষার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সরকারিভাবে পরীক্ষার ফি নেওয়া বন্ধ। অন্যদিকে স্লিপের বরাদ্দও কমে গেছে। ফলে বিদ্যালয় পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় অভিভাবক বা স্থানীয়দের সহযোগিতায় খাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুধু হরিরামপুর নয়, সারা দেশেই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।”

তবে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ