সোমবার

৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খনন নয়, রক্ষণাবেক্ষণই মূল—মানিকগঞ্জের নদী প্রকল্পে বাস্তবতার পাঠ

🕙 প্রকাশিত : ৪ মে, ২০২৬ । ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ

নদী রক্ষায় শতকোটি টাকার প্রকল্প কাগজে সফল হলেও বাস্তবে তার সুফল না মেলায় মানিকগঞ্জের নদী ও খাল ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২৩ সালে শেষ হওয়া প্রায় ১০০ কোটি টাকার খনন প্রকল্প চার বছরের মধ্যেই কার্যকারিতা হারাতে বসেছে। খননের পরও ধলেশ্বরী, ইছামতী ও গাজীখালীসহ গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার এলাকায় তিনটি নদী ও ছয়টি খাল খননের কাজ করা হয়। লক্ষ্য ছিল নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং পানি প্রবাহ সচল রাখা। কিন্তু স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা বলছে, খননের পর অল্প সময়ের মধ্যেই নদীগুলো আবার ভরাট হয়ে গেছে।
কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বাসিন্দার ভাষায়, একসময় যে নদীতে সারা বছর পানি থাকত, এখন সেখানে বর্ষা ছাড়া ধান চাষ হচ্ছে। ধলেশ্বরীর তীরবর্তী এলাকাতেও একই চিত্র—বালু জমে নতুন চর তৈরি হচ্ছে, কোথাও হাঁটু পানিও নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পনার দুর্বলতা ও তদারকির অভাবে প্রকল্পটি টেকসই হয়নি। নির্ধারিত গভীরতায় খনন না করা, খননকৃত মাটি নদীর পাড়েই ফেলে রাখা এবং পরবর্তীতে তা আবার নদীতে ফিরে আসা—এসব কারণে দ্রুত নাব্যতা হারিয়েছে নদীগুলো। এছাড়া খননের আড়ালে বালু উত্তোলন ও বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, নদী রক্ষায় শুধু একবার খনন করলেই সমাধান আসে না। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দখলমুক্তকরণ এবং স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নদীর তীর দখল, অবৈধ স্থাপনা এবং অব্যাহত বালু উত্তোলন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এ অবস্থায় নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগ নয়—টেকসই ব্যবস্থাপনাই পারে নদীকে বাঁচাতে এবং স্থানীয় জীবনে তার ইতিবাচক প্রভাব ফিরিয়ে আনতে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ