কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-এর পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম তাকে আদালতে হাজির করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল আমান এ আদেশ দেন।
এদিকে মামলার অপর দুই প্রধান সন্দেহভাজন—সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলমকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান তনুকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়ে যেতেন এবং তার মাধ্যমেই তনুর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যাতায়াত শুরু হয়।
পিবিআই কর্মকর্তাদের মতে, হাফিজুর রহমান এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেলেও, তদন্তের স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
অন্যদিকে সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলমের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পিবিআই ধারণা করছে, তাদের মধ্যে একজন বিদেশে পালিয়ে গেছেন এবং অন্যজন দেশে আত্মগোপনে আছেন। দেশে থাকা অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারে বিশেষ টিম কাজ করছে।
তবে অভিযুক্তদের নাম নিয়ে তনুর পরিবার ও তদন্ত সংস্থার মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। তনুর বাবার দাবি, অভিযুক্ত সৈনিকের নাম জাহিদ। কিন্তু পিবিআই-এর তদন্তে শাহীন আলম নামে আরেক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শাহীন ও জাহিদ দুইজন আলাদা ব্যক্তি এবং তদন্তের মাধ্যমেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
তনু হত্যা মামলার তদন্তে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালে সিআইডির পরীক্ষায় তনুর পোশাক থেকে তিনজন পুরুষের ডিএনএ নমুনা পাওয়া যায়। সম্প্রতি আদালতের অনুমতি নিয়ে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি শেষে ফেরার পথে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন পর মামলায় নতুন অগ্রগতি দেখা যাওয়ায় আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি কাইমুল হক রিংকু বলেন, দীর্ঘদিন মামলা স্থবির থাকলেও এখন আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হচ্ছে। দ্রুত ডিএনএ প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

