মঙ্গলবার

৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোরে গ্রেপ্তারের পর আজ আদালতে তোলা হচ্ছে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে

🕙 প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল, ২০২৬ । ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এর আগে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে এবং সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

পুলিশ জানায়, রংপুরের স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন হত্যা মামলাসহ রাজধানীর উত্তরা ও বনানী থানায় দায়ের করা একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে। কোন মামলায় তাকে উপস্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই ড. শিরীন শারমিন জনসমক্ষে ছিলেন না। তার অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অবশেষে ভোররাতে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে ডিবি।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, তাকে রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে গত বছরের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংস ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে আলোচিত মামলাটি রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিনের হত্যা মামলা। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সিটি বাজার এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে মুসলিম উদ্দিন নিহত হন। অভিযোগ রয়েছে, পরে আসামিদের চাপে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হয় পরিবার।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, রংপুরের এই মামলার পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর টানা চার মেয়াদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা শিরীন শারমিন চৌধুরী গত ২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। সরকার পতনের রাতে তিনি সংসদ ভবনের একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং পরে নিরাপদ স্থানে সরে যান বলে জানা যায়।

আজ তাকে আদালতে তোলাকে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাবেক এই উচ্চপদস্থ সাংবিধানিক ব্যক্তির গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ