বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) প্রথম বৈঠক সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ৯টি নতুন প্রকল্প এবং বাকি ৯টি সংশোধিত বা সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সভায় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের অবকাঠামো ও জনসেবামূলক খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন, রাজধানীতে জরুরি পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং সচিবালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ। এছাড়া সাভার সেনানিবাসে আধুনিক ব্যারাক নির্মাণ, দেশের আটটি বিভাগে উন্নতমানের ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন এবং গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনস্বাস্থ্য ও নগরায়ণ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া যায়।
সরকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন নীতিমালা গ্রহণ করেছে। কম গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রকল্পের তুলনায় চলমান প্রকল্প দ্রুত শেষ করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, প্রকল্পের সুফল যেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে এবং কোনোভাবেই অর্থের অপচয় না হয়। এ লক্ষ্যে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর কথাও জানানো হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধ করা হতে পারে। নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে।
নতুন সরকারের এই প্রথম একনেক সভাকে দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সভা শেষে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

