দুর্নীতি, অসদাচরণ ও বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান।
সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি তার পদত্যাগপত্র সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির নিকট পাঠিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক বাদী হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয় তুলে ধরে তদন্তের আবেদন জানানো হয় এবং প্রমাণিত হলে সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান করা হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলার কার্যধারায় বিচারপতি রেজাউল হাসান পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। একটি মামলায় সংশ্লিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত না থাকলেও রায়ে তার নামে কাল্পনিক যুক্তিতর্ক উল্লেখ করা হয়, যা পরে আপিল বিভাগ বাতিল করে।
এছাড়া অন্য একটি মামলায় আবেদনকারীর স্ত্রীকে পক্ষ না করেই তার মালিকানাধীন ১৩ লাখ শেয়ার বাতিল করা হয়, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি মহলের মতে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন বা শুরুর পর্যায়ে বিচারপতির এই পদত্যাগ বিচারিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উচ্চ আদালতের স্বচ্ছতা ও মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের অভিযোগ ও তার পরিণতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

