মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। তবে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনায় শেষ পর্যন্ত অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনা পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন বা দখল নয়; বরং বিশেষায়িত বাহিনী (স্পেশাল অপারেশন ফোর্সেস) এবং সাধারণ পদাতিক সেনাদের সমন্বয়ে দ্রুতগতির ঝটিকা অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি। বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসরমান জাহাজগুলোতে ৪ হাজারের বেশি মার্কিন মেরিন সেনা অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপাররাও প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, সম্ভাব্য এই স্থল অভিযান ‘যুদ্ধের নতুন ধাপ’ তৈরি করতে পারে, যা শুরুর সময়ের তুলনায় আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অভিযানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ইরানের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে রপ্তানি হয়, ফলে আন্তর্জাতিক নৌপথ সচল রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অভিযানের সময়কাল নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে। কেউ বলছেন এটি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, আবার অন্য সূত্রগুলো কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা, যাতে প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে এই প্রস্তুতির অর্থ এই নয় যে, প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে স্থল হামলার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্ট পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

