রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে জাতীয় যুবশক্তির নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতার হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে যুবশক্তির পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং আরও দুইজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।
ইফতার মাহফিলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক মুজাহিদ এমপি এবং জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি তারিকুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপির রংপুর মহানগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন অভিযোগ করেন, কাউনিয়া-পীরগাছা থেকে আসা যুবশক্তির পাঁচজন কর্মীর কাছে দাওয়াত কার্ড না থাকায় স্টেডিয়ামে প্রবেশে বাধা দেন ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। পরে তাদের ভেতরে প্রবেশ করাতে গেলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
তিনি দাবি করেন, ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহান তানভীর ফাহিম, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিমুজ্জামান হৃদয়সহ কয়েকজন তাকে ধাক্কা দেন। তাকে রক্ষা করতে গেলে যুবশক্তির জেলা কমিটির সংগঠক রাশেদুজ্জামান ও বদরগঞ্জ উপজেলা কমিটির সংগঠক আকাশ ইসলামকে মারধর করা হয়।
রংপুর মহানগর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহম্মদের অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আলমগীর নয়ন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইমতিয়াজ আহম্মদ বলেন, নিজেদের মধ্যে সামান্য বিশৃঙ্খলা হয়েছিল এবং বিষয়টি পারস্পরিকভাবে ঘটেছে।
এদিকে যুবশক্তির নেতাদের দাবি, হামলার প্রতিবাদ করায় ইফতারের পর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে যুবশক্তির মহানগর সংগঠক মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ শাহ ফকিরকে দ্বিতীয় দফায় মারধর করা হয়। এ ঘটনায় ফারহান তানভীর ফাহিম, রাজিমুজ্জামান হৃদয়, মেহেদী হাসান, নাঈম ও জেলা কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য তাহমীদসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ বলেন, তাকে টেবিলের কাঠ দিয়ে আঘাত করা হলে একপর্যায়ে তিনি হামাগুড়ি দিয়ে স্টেডিয়ামের মাঠে গিয়ে পড়েন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে জেলা যুবশক্তির সংগঠক লেমন শাহ ও জেলা ছাত্রশক্তির সংগঠক সীমান্ত হোসেনসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
জানা গেছে, মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ, লেমন শাহ ও রাশেদুজ্জামান কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহান তানভীর ফাহিম বলেন, বিষয়টি দলীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে এবং এ নিয়ে মন্তব্য করার কিছু নেই। তার দাবি, ঘটনাটি দুই পক্ষের মধ্যেই হয়েছে।
অন্যদিকে রাজিমুজ্জামান বলেন, হামলার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে মীমাংসা করা হবে।
এ বিষয়ে এনসিপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক মুজাহিদ বলেন, ঘটনার বিষয়টি নিয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা চলছে। কেউ অন্যায় করে থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

