ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কা তীব্রতর হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত ‘ডুমসডে প্লেন’ বা প্রলয় দিবসের বিমানের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের ট্যাবলয়েড পত্রিকা দ্য ডেইলি মেইল সোমবার (৯ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ার পর থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর ই-৬বি মার্কারি কৌশলগত বায়ুবাহিত কমান্ড বিমানের একাধিক উড্ডয়ন শনাক্ত হয়েছে ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটায়। বোয়িং ৭০৭ এয়ারফ্রেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বিমানগুলো পারমাণবিক হামলার পরিস্থিতিতে আকাশ থেকেই সামরিক কমান্ড পরিচালনা ও পাল্টা হামলার নির্দেশ দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এই ভাসমান কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ পারমাণবিক সাবমেরিন, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং স্যাটেলাইটে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
ফ্লাইট ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে দুটি ই-৬বি বিমানের বিশেষ উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে একটি মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মেরিল্যান্ডের পাটুসেন্ট রিভার নেভাল এয়ার স্টেশনে অবতরণ করে। অন্যটি নেব্রাস্কার অফুট এয়ার ফোর্স বেস থেকে উড্ডয়ন করে পুনরায় সেখানেই ফিরে আসে।
পরবর্তী কিছু প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আরও কয়েকটি বিমান আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে পারস্য উপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এসব উড্ডয়ন নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা বিষয়টিকে ‘অপারেশনাল সিকিউরিটি’ বা সামরিক কার্যক্রমের গোপনীয়তার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এই বিমানগুলো মূলত ‘ট্যাকামো’ (TACAMO) নামের একটি মিশনের অংশ। এর লক্ষ্য হলো—যদি যুদ্ধের সময় সাধারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যায়, তবুও যেন পারমাণবিক কমান্ড বা নির্দেশ যথাযথ স্থানে পৌঁছাতে পারে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও দূতাবাস লক্ষ্য করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই ধরনের যুদ্ধকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য তেহরানের সঙ্গে ভাগাভাগি করার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডুমসডে প্লেনগুলো দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখতে পারে, যা সংকটকালে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৮০-এর দশকে চালু হওয়া ই-৬বি মার্কারি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বায়ুবাহিত কৌশলগত প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি। ২২ সদস্যের ক্রু নিয়ে পরিচালিত এই বিমান একটানা প্রায় ৭ হাজার মাইল উড়তে পারে এবং আকাশে জ্বালানি গ্রহণের মাধ্যমে প্রায় তিন দিন পর্যন্ত উড়ন্ত অবস্থায় থাকতে সক্ষম।
এর একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশন ‘লুকিং গ্লাস’, যার মাধ্যমে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উৎক্ষেপণের কমান্ড নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ফ্লিটের বাড়তি সক্রিয়তা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন.

