বৃহস্পতিবার

১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

🕙 প্রকাশিত : ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ

আগামী ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের। প্রেসিডেন্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তিনি তার ঢাকা মিশনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শুরু করবেন বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্র। নয়া রাষ্ট্রদূতের যোগদান নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছে। এ বিষয়ে আজ আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো ধারণা করছে, ঢাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া বোঝা ও পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত সময় কাটাতে হবে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ডিসেম্বরে তাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মার্কিন সিনেট। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সিনেটের অনুমোদনের পর লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মার্কিন সিনেটের অনুমোদন পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। বাংলাদেশে পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র কর্মকর্তা ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। পিটার হাস ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তদশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর অবসরে যান। তার বিদায়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে রুটিন দায়িত্ব পালন করেন ট্রেসি অ্যান্ড জ্যাকবসন।
নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত হওয়ার আগে ক্রিস্টেনসেন ২০২২ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডে পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিরোধ মিশনের আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে পরামর্শ দেন। দুই দশকের বেশি সময়ের কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ওয়াশিংটন ও বিভিন্ন বিদেশি মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। মার্কিন রাজনৈতিক-সামরিক ব্যুরোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র হস্তান্তর দপ্তরের উপ-পরিচালক, উত্তর কোরিয়া নীতির জন্য বিশেষ প্রতিনিধির বিশেষ সহকারী এবং যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক উপ-কমিটিতে পিয়ারসন ফেলো হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে ক্রিস্টেনসেনের। ন্যাশনাল ওয়ার কলেজের ‘ডিস্টিংগুইশড’ গ্র্যাজুয়েট এই কূটনীতিক ২০২২ সালে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি থেকে পরিসংখ্যানে মাস্টার্স এবং রাইস ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে তার। তিনি স্প্যানিশ, জার্মান ও ভিয়েতনামি ভাষায় কথা বলতে পারেন; ফরাসি, জাপানি ও পর্তুগিজ ভাষাও শিখেছেন।
অক্টোবরে সিনেটের ফরেন রিলেশন্স কমিটির শুনানিতে লিখিত বক্তব্যে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, চীন এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে কী ধরনের ‘ঝুঁকি’ রয়েছে, তা বোঝাতে বাংলাদেশের সরকার ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তিনি কাজ করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ হলেও বড় প্রতিবেশীদের ছায়ায় পড়ে থাকায় বাংলাদেশ যথাযথ মনোযোগ পায় না। ফরেন সার্ভিসের চাকরিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ নীতি নিয়ে ২০ বছরের বেশি সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে, যার মধ্যে ঢাকায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফলে আমি দেশটির গুরুত্ব এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের তাৎপর্য ভালোভাবে বুঝি।’
বাংলাদেশকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে’ রয়েছে উল্লেখ করে ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘’২৪-এর আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বিক্ষোভ ১৫ বছর শাসনকারী সরকারের পতন ঘটিয়েছে। নতুন সরকার এবং নতুন পথনির্দেশ পেতে আগামী বছরের শুরুতে ভোট দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ, যা হবে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচন।’ তিনি বলেন, ‘উজ্জ্বল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের যাত্রায় বাংলাদেশকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি ঢাকায় দূতাবাসকর্মীদের নিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত উত্তরাধিকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কাজ করবো।’
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পেলে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক উপস্থিতি বাড়ানো, বাণিজ্য বাধা ও বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করবেন তিনি।

সূত্র:ইত্তেফাক

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ