২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের

🕙 প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৪:১৭ এএম

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যকে কোনো স্লোগান নয়, বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, চলতি দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চায় সরকার।

বৃহস্পতিবার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইএসডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি নতুন সরকার এসেছে এবং বাংলাদেশের একটি নতুন দিকনির্দেশনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া। এটি কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি পরিকল্পনা। আমরা এই দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চাই।’

চুক্তির আওতায় ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক। বাংলাদেশ সরকার ও আইএসডিবির মধ্যে প্রকল্পটির জন্য ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের পক্ষে ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি সই করেন।

প্রকল্পটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বাস্তবায়ন করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র এবং এ অঞ্চলের প্রবেশদ্বারে পরিণত করা। তৈরি পোশাকশিল্প দেশের প্রথম বড় প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং সবুজ শিল্পকে পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, এমন কারখানা প্রয়োজন, যেগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং এমন কর্মসংস্থান প্রয়োজন, যা মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হেলথ কার্ড চালুর কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধি উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এ কারণে অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও আইএসডিবির মধ্যে নতুন ধরনের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই সহযোগিতা আরও উদ্ভাবনী, সাড়াপ্রদানকারী ও ফলাফলভিত্তিক হবে এবং বাংলাদেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আইএসডিবি ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে তাঁকে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে তাঁর নেতৃত্বে ব্যাংকটি সদস্যদেশ ও মুসলিম উম্মাহর জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

অর্থায়ন চুক্তিটিকে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি আর্থিক লেনদেন নয়; বাংলাদেশের প্রতি ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের আস্থারও বহিঃপ্রকাশ।

ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠায় ড. আল জাসেরের নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এই তহবিলের সুবিধা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে সদস্য দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন সহায়তা আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় আইএসডিবির আঞ্চলিক হাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

আইএসডিবির বৃহত্তর ভূমিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকটি সদস্য দেশগুলোর নিজ নিজ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করতে পারে। কোনো দেশ জ্বালানি খাতে এগিয়ে থাকলে এবং অন্য কোনো দেশ অবকাঠামো খাতে এগিয়ে থাকলে তাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে আইএসডিবি ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিপিসির বর্তমান পরিশোধন ক্ষমতা ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ইউরো-৫ মানসম্পন্ন পরিবেশবান্ধব পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প শুধু একটি জ্বালানি বিনিয়োগ নয়; এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সক্ষমতায় একটি বিনিয়োগ।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ