প্রশাসনের আশ্বাসে দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর জামালপুর থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল আবারও শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা তাদের অঘোষিত কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন। এর আগে বাসে ভাঙচুর ও মানববন্ধনে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় উত্তেজনা তৈরি হয়। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
এর আগে সোমবার রাতে জামালপুরের লাহিড়ীকান্দা এলাকায় রাজীব বাস ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। বুধবার সকালে জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা বাজারে রাজীব পরিবহনের বেপরোয়া চলাচলের প্রতিবাদে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। এ সময় রাজীব পরিবহনের দুটি বাসে ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের ঘটনা ঘটে।
নিরাপত্তার অভাবের অভিযোগ তুলে বুধবার রাত থেকে জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন শ্রমিকরা। আকস্মিক কর্মবিরতির কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে টার্মিনালে এসে বাস না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। অনেকে বাধ্য হয়ে ছোট যানবাহনে করে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যান।
পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বাস চলাচল শুরু হয় বলে জানান জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভ।
এদিকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হলেও রাজীব পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আন্দোলন করছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও জাতীয় যুবশক্তির নেতাকর্মীরা।
অভিযোগ উঠেছে, সেখানে বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান। এতে ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে জামালপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জাতীয় যুবশক্তির জামালপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. আব্দুল্লাহ আল আবিদ সৌরভ।
অভিযোগে মো. আব্দুল্লাহ আল আবিদ সৌরভ জানান, বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন শুভ, সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম জার্ণিস, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হারুন অর রশিদসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও ৫০ থেকে ৭০ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মানববন্ধনে হামলা চালান এবং আন্দোলনকারীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহতদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলার পর জড়িতদের বিচার ও নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে ভুক্তভোগীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বাস চলাচলের বিষয়ে তিনি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১২টি দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় শ্রমিকরা বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে রাজি হয়েছেন।
জামালপুর সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব জানান, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী জানান, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিআরটিএর পক্ষ থেকে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা বাস চলাচল স্বাভাবিক করার কথা জানান।

