মানিকগঞ্জবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটিতে। বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মেশিনারিজের মাধ্যমে নির্ভুল ও মানসম্মত প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম সোমবার দুপুর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে হাসপাতালটিতে। পাশাপাশি এক্স-রে, সিটি স্ক্যান ও এমআরআইসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা স্বল্পমূল্যে করার সুযোগ পাচ্ছেন রোগীরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এর ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখন একই ছাদের নিচে করানো সম্ভব হবে। এতে রোগীদের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ছুটে বেড়ানোর প্রবণতা কমবে। কমবে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দালালদের দৌরাত্ম্যও।
এতোদিন হাসপাতালে আসা রোগীরা বিভিন্ন দালালচক্রের খপ্পরে নিয়ে যেতো স্থানয়ি বিভিন্ন মানহীন বেসরকারি হাসপাতালও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে রোগীদের কাছ থেকে গলাকাটা মূল্য রাখা হতো এবং প্রায়শঃ ভুলভাল রিপোর্ট দেয়ার হরহামেশা অভিযোগ আসতো। সেই চিত্র এখন দেখা যাবেনা জেলা সদরের এই হাসপাতালটিতে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বাহাউদ্দীন সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উন্নতমানের আধুনিক মেশিনারিজের মাধ্যমে হাসপাতালেই এখন বিভিন্ন ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করা যাবে। রোগীরা স্বল্পমূল্যে এসব সেবা পাবেন। এতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এক জায়গা থেকেই করানো সম্ভব হবে। এধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষাগার বাংলাদেশেরর জেলা হাসপাতালে দ্বিতীয়টি নেই বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. বাহাউদ্দীন বলেন, প্রতিদিন এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) গড়ে প্রায় দেড় হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। বিপুলসংখ্যক এসব রোগীর অনেককেই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে যেতে হতো। এখন হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ তৈরি হওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এতদিন চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে গিয়ে অনেক রোগী বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। সেখানে পরীক্ষার খরচ ছিল তুলনামূলক অনেক বেশি। আবার নিম্নমানের বা ভুল রিপোর্টের কারণে অনেক সময় রোগীরা সঠিক চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে আধুনিক প্রযুক্তির পরীক্ষার সুযোগ বাড়ায় এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হাসপাতালটির এই উদ্যোগকে মানিকগঞ্জের সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য কম খরচে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এর সুফল ব্যাপকভাবে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন তারা।
হাসপাতালে অত্যাধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম শুরুর সময় সিনিয়র চিকিৎসক ডা. বদরুল আলম চৌধুরী, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মামুন আহমেদ,
প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ জুনিয়র কনসালট্যান্ট (প্যাথলজি) ডা. মাহমুদুর রহমান, ডা. আরিফুর রহমান, ডা. আলমগীর হোসেন, মানবেন্দ্র সরকার, ফেরদৌস রায়হানসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মানিকগঞ্জবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দ্বার উন্মোচিত
এক ছাদের নিচে অত্যাধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কমবে দালালদের দৌরাত্ম্য
🕙 প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১০:৪৭ এএম

