এতদিন দলিল নিবন্ধনের পর রাজস্বের টাকা জমা হতো ব্যাংকের পে-অর্ডারে। এরপর সেই টাকা সরকারি কোষাগারে পৌঁছাতে কেটে যেত দিনের পর দিন। এবার সেই দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটল। মঙ্গলবার থেকে এ-চালানের মাধ্যমে ভূমি নিবন্ধন ফি ও করাদি সরাসরি রিয়েল টাইমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থাপনায় এই নতুন অধ্যায়ের পাইলটিং শুরু হলো মানিকগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে।
মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের ইতিহাসে হয়ে থাকল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ-চালানের মাধ্যমে রাজস্ব জমার এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন নিবন্ধন অধিদপ্তরের আইজিআর শামীমা আফরোজ। অনলাইন জুম প্লাটফর্মে যুক্ত হয়ে তিনি উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মানিকগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে পাইলটিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর অতিদ্রুত সারাদেশে একযোগে এ-চালান সিস্টেমের মাধ্যমে ভূমি নিবন্ধন ফি ও করাদি জমা নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ভূমি নিবন্ধন খাতে দীর্ঘদিনের ম্যানুয়াল রাজস্ব জমা ব্যবস্থাপনা পেরিয়ে ডিজিটাল ও রিয়েল টাইম রাজস্ব ব্যবস্থাপনার নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আইজিআর শামীমা আফরোজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আজ একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। ভূমি নিবন্ধন ফি ও অন্যান্য করাদি এ-চালানের মাধ্যমে রিয়েল টাইমে সরকারি কোষাগারে জমার শুভ সূচনা হলো নিবন্ধন অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ জেলার সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমে। ফলে ভূমি নিবন্ধনের বিশাল অংকের রাজস্ব এখন থেকে আর সরকারি কোষাগারের বাইরে থাকবে না। নাগরিকরা দ্রুত ও সহজে ভূমি নিবন্ধন করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্রমতে, এতদিন ভূমি নিবন্ধন ফি ও করাদি সোনালী ব্যাংকের পে-অর্ডারের মাধ্যমে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জমা দেওয়া হতো। এতে রাজস্বের অর্থ ব্যাংকে পড়ে থাকত এবং সরকারি কোষাগারে জমা হতে সময় লাগত। নতুন পদ্ধতিতে সেই অর্থ এ-চালানের মাধ্যমে সরাসরি সরকারি কোষাগরে জমা হবে। এতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতি বাড়ার পাশাপাশি অর্থ জমার প্রক্রিয়াও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
অনুষ্ঠানে অর্থ বিভাগের BACS ও iBAS++ Scheme-এর এ-চালান সংশ্লিষ্ট সদস্যরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এ-চালান টিমের সিনিয়র ফাংশনাল পরামর্শক এ.কে.এম মুখলেছুর রহমান সূচনা বক্তব্যে এ-চালান সিস্টেমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে উপস্থিত সবাইকে অবহিত করেন।
iBAS++-এর PEC মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান সরকারি রাজস্ব অন-ডেটে কোষাগারে জমার একক প্লাটফর্ম হিসেবে এ-চালানের গুরুত্ব ও ভূমিকা তুলে ধরেন। ভূমি নিবন্ধন অধিদপ্তর এ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তিনি আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ভূমি নিবন্ধন অটোমেশনের এক ধাপ অগ্রগতি হিসেবে মানিকগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে।
জেলা রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের ভূমি নিবন্ধন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি হিসেবে এআইজিআর (অর্থ) মহসীন আলম, ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মুনিরুল হাসান এবং সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো. জুবায়ের হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা অটোমেশন সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ-চালান সিস্টেমের সঙ্গে ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের আন্তঃসংযোগ সম্পন্ন হলে নিবন্ধন ফি জমার প্রক্রিয়া আরও সহজ, নির্ভুল ও সাবলীল হবে। এতে নাগরিকদের হয়রানি কমার পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থাপনাও আরও গতিশীল হবে।
আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের ইউজারদের উপস্থিতিতে দুটি দলিলের নিবন্ধন ফি এ-চালানের মাধ্যমে জমা দিয়ে রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।

