মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে রূপ নিয়েছে এক প্রলয়ংকরী নদীভাঙন। উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের বিখ্যাত আমতুলী হাট,হাই স্কুল, প্রাথমিক বিদ্যালয়, দোকান পাট সহ বিভিন্ন স্থাপনা ও বৈন্যা গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক বাড়ী ঘর। যমুনা নদীর ছোট্ট একটি শাখা নদী এসে নদীগর্ভে একে একে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো। নদীপাড়ের নদীকবলিত মানুষগুলোর এখন রাত কাটছে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগে।শেষ সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
গত কয়েকদিনের আকস্মিক ভাঙনে বৈন্যা গ্রামের অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। চরমাল আতঙ্কে রয়েছে দৌলতপুরের শ্রেষ্ঠ গরুর হাট আমতলী হাট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
বাপ-দাদার স্মৃতিবিজড়িত ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
ভিটেমাটি হারানোর পথে অশ্রুসজল চোখে ক্ষতিগ্রস্ত জিয়নপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন,নদীর ভাঙ্গনে আমরা পুরোপুরি দিশেহারা। চোখের সামনে বাপ-দাদার শেষ স্মৃতিটুকু রক্ষা করতে পারছিনা। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, কী করব—কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমাদের মতো আর কেউ যেন এভাবে গৃহহীন না হয়, তার জন্য মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য জিন্নাহ কবির ভাইয়ের কাছে আমরা বিনীত ও জোর আকুতি জানাচ্ছি দ্রুত সময়ের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলে
হুমকির মুখ থেকে রক্ষা করুন বৈন্যা গ্রামের ২০০ পরিবার ও শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান আমতুলী ফেদু সেক উচ্চ বিদ্যালয় , আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বিখ্যাত গরুর হাট আমতলী বাজারের ২ শতাধিক দোকান পাট।
স্থানীয় অধিবাসী ও বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ না করা হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিখ্যাত আমতুলী হাট ফেদু সেক উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বৈন্যা গ্রামের প্রায় ২০০টি পরিবার সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়বে। এছাড়া গ্রামের একমাত্র প্রধান সংযোগ সড়ক, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এবিষয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি ও সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হবি বলেন মাএ ৫০০ ফুট জায়গা জিও ব্যাগ ফেলা হলে ২০০ পরিবার নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া রক্ষা পাবে বিখ্যাত গরুর হাট ও বড় বড় দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । নদী থেকে মাত্র ২ শত গজ পরের দুটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেভাবে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে ১০/১৫ দিনের মধ্যে নদী গর্ভে চলে যাবে তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া না হলে কোন ভাবেই রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
এবিষয়ে মহিলা সংরক্ষিত ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম বলেন আর ৭ দিন এভাবে ভাঙলে আমার বাড়ি ঘড় নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়বে । এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাট বাজার,বশত ভিটা সহ সব কিছু ভেঙে যাবে তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন।
এবিষয়ে জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আতোয়ার রহমান জানান, নদীভাঙনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধ এবং পরবর্তীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মানিকগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্যকে সার্বিক বিষয় অবহিত করা হয়েছে।এখন নদীপাড়ের হাজারো মানুষের একটাই দাবি—সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবিরের কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপে যেন রক্ষা পায় অবশিষ্ট ভিটেমাটি ও গ্রামীণ সম্পদ।
এবিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন -বিষয়টি আমি অবগত আছি জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কে বিষয়টি মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে লিখিত আবেদন পেলে ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

