দৌলতপুরে বিচ্ছেদ ছাড়াই বিয়ের দ্বিতীয় কাবিনে নির্যাতনের শিকার অটোচালক এতিম আলামিন

🕙 প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট, ২০২৬ । ১১:০২ এএম

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী ইউনিয়নে কাজীর সখ্যতায় বিচ্ছেদ ছাড়াই বিয়ের দ্বিতীয় কাবিনের কারণে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে পিতৃহারা এতিম অটোচালক আলামিনের।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার চরকাটারী গ্রামের মৃত লোকমানের ছেলে আলামিন (২৫) একই গ্রামের আলম মন্ডলের মেয়ে জিয়াসমিন (২২) কে দেড় লক্ষ টাকা দেন মোহরে পারিবারিকভাবে বিয়ে করে ২০২৪ সালের দশ নভেম্বর। বেশ কিছুদিন সংসার করার পর বাঁধ সাধে বউ শাশুড়িকে নিয়ে সংসার করবে না। পিতৃহারা আলামিনের শ্বশুর ও তার পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় মাঝেমধ্যে নির্যাতনের শিকার হয় আলামিন। গত ৪ঠা এপ্রিল আলামিন শ্বশুর বাড়িতে গেলে তাকে আটকিয়ে মারধর করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রথম বিয়ের কোন বিচ্ছেদ ছাড়াই কাজীর সহযোগিতায় ছয় লক্ষ টাকা এবং থাকার একমাত্র সম্বল চৌচালা ঘর সহ দেন মোহরে দ্বিতীয় কাবিন করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এতে অটো চালক আলামিন অস্বীকৃতি জানালে তার স্ত্রী জিয়াসমিন বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ কোর্টে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

বিষয়টি নিয়ে আলামিন দৌলতপুর থানা পুলিশে একটি অভিযোগ দায়ের করে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে দৌলতপুর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি মীমাংসা করে দেন এবং বিয়ের দ্বিতীয় কাবিন টি বাতিল করার জন্য চরকাটারী ইউনিয়নের কাজী আবদুল্লাহ আল মামুনকে অনুরোধ করেন। তখন কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান দ্বিতীয় কাবিন টি মূল খাতায় এন্ট্রি হয়নি আমি এটি এন্টি করব না কিন্তু এর কোন তোয়াক্কা না করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দ্বিতীয় কাবিন টি তার খাতায় এন্ট্রি করে রেজিস্ট্রি ভুক্ত করেন। চরকাটারী ইউনিয়নের বিবাহ রেজিস্টার কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিচ্ছেদ ছাড়া একাধিক কাবিন করার বিধান আইনে আছে।

নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী আলামিন জানান, আমি অশিক্ষিত সহজ সরল একজন মানুষ আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন কৌশলে আমাকে ডেকে নিয়ে মারধর করে এবং জোরপূর্বক দ্বিতীয়ভাবে বিয়ের কাবিন করে।

ঘটনার ব্যাপারে আলামিনের মাতা রাশেদার সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার থাকার ঘর ভেঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং ঘরের ট্রাঙ্ক ভেঙ্গে পঞ্চাশ হাজার টাকা লুটে নিয়েছে এবং আমাকে সহ আমার পরিবারকে সবসময় নির্যাতন করে এ ব্যাপারে আমি দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

চরকাটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, ঘটনাটি গ্রাম আদালতে মীমাংসা করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

ঘটনার ব্যাপারে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিলভিয়া স্নিগ্ধার জানান, আমি একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে মীমাংসা করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ