চেয়ারম্যান হলে কৃষ্ণপুরে সুশাসন ও আধুনিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলতে চান বিল্লাল হোসেন

🕙 প্রকাশিত : ২ আগস্ট, ২০২৬ । ৫:২৭ এএম

আসন্ন কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী সমাজসেবক বিল্লাল হোসেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও নিজ জন্মভূমি কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

বিল্লাল হোসেন বলেন, রাজনীতি বা জনপ্রতিনিধিত্বকে তিনি কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম হিসেবে দেখেন না। মানুষের সেবা করার লক্ষ্য থেকেই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, সামর্থ্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নকে একটি উন্নত, আধুনিক ও জনবান্ধব ইউনিয়নে রূপ দিতে চান তিনি।

তিনি জানান, নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনেক আগ থেকেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে মসজিদ, মন্দির, শ্মশানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি ঈদ, দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে মানবিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রবাসে থাকলেও নিজ এলাকার উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলে জানান বিল্লাল হোসেন। তার লক্ষ্য, কৃষ্ণপুর ইউনিয়নকে এমন একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত ইউনিয়নে পরিণত করা, যা উন্নয়ন, সুশাসন ও নাগরিক সুবিধার দিক থেকে মানিকগঞ্জের অন্যান্য ইউনিয়নের জন্য অনুসরণীয় উদাহরণ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত নাগরিক ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান ও পরিকল্পিত উন্নয়ন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি কৃষ্ণপুর ইউনিয়নকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

তিনি বলেন, ইউনিয়নকে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংমুক্ত একটি নিরাপদ সমাজে পরিণত করাই হবে তার অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুবকদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিল্লাল হোসেন বলেন, “মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যুব সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারি সেবার সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিএফ, ভিজিডিসহ সব ধরনের সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে কাজ করবেন বলে জানান।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিল্লাল হোসেন একজন সহজ-সরল ও মানবিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তার নেতৃত্বে কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের নতুন ধারা পেতে পারে।

ইউনিয়নবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করে বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদেরই মানুষ। আপনাদের সমর্থন ও দোয়া পেলে ইনশাআল্লাহ কৃষ্ণপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ, মানবিক ও বৈষম্যহীন ইউনিয়নে পরিণত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। আমার স্বপ্ন, কৃষ্ণপুর হবে উন্নয়ন, সুশাসন ও জনসেবার দৃষ্টান্ত—যা মানিকগঞ্জের অন্যান্য ইউনিয়নের তুলনায় একটি ব্যতিক্রমী মডেল হিসেবে পরিচিতি পাবে।”

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ