জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) উচ্চ-রেজোলিউশনের জলবায়ু প্রক্ষেপণ (ক্লাইমেট প্রজেকশন) তথ্য এবং উন্নত জলোচ্ছ্বাস পূর্বাভাস মডেল চালু করেছে।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনে ‘বাংলাদেশে কার্যকর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জলবায়ু প্রক্ষেপণ ও জলোচ্ছ্বাস মডেলিং’ শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাইকা বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উইং-৩ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইফুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অর্থায়নে পরিচালিত ‘আবহাওয়া ও জলবায়ু সেবার সক্ষমতা জোরদারকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের জুলাই মাসে একাধিক সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) মেটিওরোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এমআরআই) বিজ্ঞানী ড. আকিহিকো মুরাতা ও ড. নাদাও কোহ্নো বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেন।
সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণায় বলা হয়, ভবিষ্যতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পরও তীব্র ও ঘন ঘন তাপপ্রবাহ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া শীতকাল ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ঘন কুয়াশার প্রবণতাও বাড়তে পারে।
নতুন জলোচ্ছ্বাস পূর্বাভাস মডেলের মাধ্যমে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা, পরিবর্তনের ধারা এবং সম্ভাব্য প্লাবিত এলাকার বিষয়ে আরও নির্ভুল আগাম তথ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতার পূর্বাভাসও আরও নির্ভুলভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন জলোচ্ছ্বাস পূর্বাভাস মডেলটি ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং এর পূর্বাভাস সংস্থাটির সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) ‘আর্লি ওয়ার্নিংস ফর অল’ বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সেমিনারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন জাইকার সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

