মানিকগঞ্জের চকহরিচরণ গ্রামে সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছেন শাকির হোসেন সুমন নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তার দখলবাজি ও প্রভাব বিস্তার বন্ধ হয়নি। বরং নতুন রাজনৈতিক আশ্রয়ে তিনি পুনরায় সরকারি জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকহরিচরণ গ্রামের আব্দুর রহমান রহমের ছেলে শাকির হোসেন সুমন অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সে সময় সরকারি জমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, চকহরিচরণ লায়ন্স ক্লাবের জায়গা দখল করে সেখানে নিজস্ব স্থাপনা নির্মাণ করেন তিনি।
পরে প্রশাসনের উদ্যোগে তার নির্মিত বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি বদলালেও সুমনের কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন আসেনি বলে দাবি স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি আবারও সেই জমিগুলো দখলের চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
চকহরিচরণ লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি আব্দুল মতিন মাস্টার জানান, ১৯৯১ সালে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সে সময় জেলা বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশিদ এমপি ক্লাবটির উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে ঝড়ে ক্লাবঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে জায়গাটি ফাঁকা পড়ে ছিল। তিনি দাবি করেন, পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাতের আঁধারে স্থাপনা সরিয়ে ফেলে সেখানে সুমন ভবন নির্মাণ করে দখলে নেন।
তিনি আরও বলেন, “সুমনের বাবা আব্দুর রহমান রহম ক্লাবের নামে জায়গাটি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছিলেন। আমরা চাই জায়গাটি সম্পূর্ণ উদ্ধার করে সেখানে আবার ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হোক।” এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
ভুক্তভোগী সিকান্দার আলী অভিযোগ করে বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় থেকে সুমন সরকারি জমি দখল করেছিল। পরে প্রশাসন সেগুলো উদ্ধার করে। এখন আবার নতুন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানি করা হয়েছে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের দাবি, সরকারি জমি দখলের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এর পেছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করতে হবে।

