ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আবারও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে তেল আবিব। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগে স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন শত শত বিক্ষোভকারী।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১৩ জুন) তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে প্রায় ৫০০ মানুষের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু সরকার আইন অনুযায়ী স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে অনাগ্রহী।
গাজায় অপহরণের পর নিহত ৮০ বছর বয়সী ইয়োরাম মেটজগারের পুত্রবধূ আয়ালা মেটজগার সমাবেশে বলেন, সময় যত গড়াচ্ছে ততই নতুন প্রশ্ন সামনে আসছে। তার মতে, রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশনই ইসরায়েলের সর্বোচ্চ অনুসন্ধানী কর্তৃপক্ষ, যেখানে প্রধান বিচারপতির নিয়োগ দেওয়া স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত তদন্ত কমিটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হবে। তার ভাষায়, “এটি হবে জনতুষ্টিবাদী ও রাজনৈতিক তদন্ত কমিটি, যেখানে জোট সরকারের সদস্যরাই নিজেদের কর্মকাণ্ড তদন্ত করবে।”
সমাবেশে বক্তব্য দেন হামলায় নিহত নোভা সঙ্গীত উৎসবের অংশগ্রহণকারী ২৬ বছর বয়সী ওরিয়া লিটম্যানের বাবা এরান লিটম্যানও। তিনি বলেন, তার মেয়ে ধর্মীয় সংঘাতের বলি হয়েছেন। হামাস নেতা ইয়াহইয়া সিনওয়ারের রেখে যাওয়া চিঠির উদ্ধৃতি টেনে তিনি দাবি করেন, মুসলিম পবিত্র স্থানগুলোকে কেন্দ্র করে উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ড এই সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছে।
একই সঙ্গে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এড়িয়ে যাওয়া ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। আবেগঘন বক্তব্যে লিটম্যান বলেন, “আমাকে কখনো বলবেন না যে শুধু ধর্মীয় শিক্ষা আমাদের রক্ষা করে।”
বিক্ষোভ চলাকালে সরকারপন্থি কর্মী হাদার মুখতার সেখানে ভিডিও ধারণ করতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এক সরকারবিরোধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী তাকে বাধা দিলে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে আলাদা করে। পরে তাদের বক্তব্য শুনে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধ, নিরাপত্তা ব্যর্থতা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে ইসরায়েলে জনঅসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে, যা নেতানিয়াহু সরকারের ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে।

