মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ভাবি-ভাতিজা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. ইউসুফ মোল্লা (৪২) এবং তাঁর সহযোগী পরিকল্পনাকারী ভাগিনা মো. সুমন হোসেনকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তাঁদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৪টায় মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম (বিপিএম-সেবা)।
গত ৩০ মে রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রধান আসামি ইউসুফ মোল্লা তাঁর বড় ভাইয়ের স্ত্রী আমেনা খাতুন (৩২) ও মাত্র ১৫ মাস বয়সী ভাতিজা আসলাম হোসেন আসাদকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। এ সময় বড় ভাই আব্দুস সালাম মোল্লাকেও (৪৮) হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, প্রধান আসামি মো. ইউসুফ মোল্লা ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করেছিলেন। এরপর তিনি ফ্রিল্যান্সিং ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে রান্নার বিভিন্ন মসলা আমদানির ব্যবসা করতেন। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি গ্রামে চলে আসেন এবং চরম আর্থিক অনটনসহ বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েন।
জিজ্ঞাসাবাদে ইউসুফ পুলিশকে জানান, তাঁর ভাবি নিহত আমেনা খাতুন অত্যন্ত আত্মকেন্দ্রিক ছিলেন। তিনি ইউসুফ ও তাঁর পরিবারের কোনো খোঁজখবর নিতেন না এবং স্বামী সালাম মোল্লাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতেন। পৈতৃক বসতবাড়ী এবং বড় ভাই সালামের তৈরি পোশাকের (গার্মেন্টস) বড় দোকানে ইউসুফেরও অংশ ছিল। কিন্তু ভাবির কারণে পরিবারটি তাঁকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলায় এবং তাঁর ন্যায্য অংশ বুঝিয়ে না দেওয়ায় ইউসুফের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ আরও জানায়, এই ক্ষোভ থেকেই বড় ভাই সালামের পুরো পরিবারকে হত্যা করে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে সব ছাই করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ইউসুফ ও তাঁর ভাগিনা সুমন হোসেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউসুফ তাঁর ভাবি ও ভাইকে আঘাত করার পর যখন ১৫ মাস বয়সী নিষ্পাপ ভাতিজাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন, তখন আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। হত্যাকাণ্ডের পর কিছু সময় নিহতের মরদেহের পাশেই বসে তিনি চিৎকার করে কান্না করেন এবং পাশের লোকজনকে ডেকে ভাতিজাকে বাঁচানোর আকুতি জানান। তবে ততক্ষণে শিশুটির মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন, ৩১ মে নিহত আমেনা খাতুনের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে দৌলতপুর থানায় দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) ৩০২, ৩০৭ ও ৩২৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

