সোমবার

২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিকিট দুর্ভোগে জিম্মি উত্তরবঙ্গের মানুষ

🕙 প্রকাশিত : ২৪ মে, ২০২৬ । ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ

ঈদ কিংবা বড় কোনো উৎসব ঘিরে উত্তরবঙ্গের মানুষের অন্যতম বড় দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাস ও ট্রেনের টিকিট সংকট। জীবিকার প্রয়োজনে, চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা পারিবারিক কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষ রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করেন। কিন্তু উৎসব এলেই একটি টিকিট সংগ্রহ যেন সাধারণ মানুষের জন্য অসাধ্য এক যুদ্ধ হয়ে ওঠে।

প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন টিকিট ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল যাত্রীসেবাকে সহজ ও স্বচ্ছ করা। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই ব্যবস্থাই এখন বহু মানুষের ভোগান্তির কারণ। টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব আসন শেষ হয়ে যায়। অথচ পরে সেই টিকিটই কালোবাজারি ও দালাল চক্রের মাধ্যমে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়ছেন।

বিশেষ করে ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’, ‘একতা এক্সপ্রেস’, ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ ও ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’-এর মতো ট্রেনগুলো উত্তরবঙ্গের মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। কিন্তু অনলাইন সার্ভারের দুর্বলতা, পেমেন্ট জটিলতা, টাকা কেটে নেওয়ার পরও টিকিট নিশ্চিত না হওয়া এবং সার্ভারে প্রবেশের সমস্যার কারণে যাত্রীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। গ্রামাঞ্চলের অল্পশিক্ষিত মানুষ প্রযুক্তিগত জটিলতায় পড়ে আরও বেশি বিপাকে পড়ছেন।

একই চিত্র দূরপাল্লার বাস পরিবহনেও। অনলাইনে প্রদর্শিত ভাড়ার সঙ্গে কাউন্টারের ভাড়ার বিস্তর পার্থক্য দেখা যায়। ছুটির মৌসুমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকায় অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

গণপরিবহন কেবল ব্যবসার বিষয় নয়; এটি মানুষের মৌলিক নাগরিক সেবার অংশ। তাই টিকিট বিক্রয় ব্যবস্থার এই অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ।

প্রথমত, অনলাইন সার্ভারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে অতিরিক্ত চাপেও সেবা সচল থাকে। দ্বিতীয়ত, দালাল ও কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ ভাষায় অনলাইন টিকিট ব্যবহারের নির্দেশনা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি স্টেশন ও বাস কাউন্টারে তথ্যকেন্দ্র চালু রেখে টিকিটের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উৎসবকেন্দ্রিক বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় ট্রেন ও বাসের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

উত্তরবঙ্গের মানুষের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। নাগরিকের স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব—এ দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ