রবিবার

২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরবানির ঈদে ঢাকামুখী সৈয়দপুরের কসাইরা, কেউ যাচ্ছেন বিমানে

🕙 প্রকাশিত : ২৩ মে, ২০২৬ । ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সৈয়দপুরের শতাধিক কসাই। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজ করতে প্রতিবছরের মতো এবারও তারা ছুটবেন রাজধানীতে। কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে, আবার অনেকে যাচ্ছেন বিমানযোগে।

সৈয়দপুর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাদিম কোরাইশি, যিনি এলাকায় ‘ছোটু নাদিম’ নামে পরিচিত, এবার ১০ সদস্যের একটি দল নিয়ে বিমানে ঢাকায় যাচ্ছেন। ঈদের আগের দিন তাদের যাত্রার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে টিকিটও কাটা হয়েছে।

ছোটু নাদিম জানান, তাদের পূর্বপুরুষরাও কোরবানির সময় ঢাকায় গিয়ে কাজ করতেন। সেই ধারাবাহিকতা এখনও চলছে। তিনি বলেন, “চামড়া ছাড়ানো, মাংস টুকরা করা, হাড় আলাদা করা—সব কাজেই দক্ষতা লাগে। ছোটবেলা থেকেই আমরা এসব কাজ শিখে বড় হয়েছি।”

সৈয়দপুরের এসব কসাইয়ের বড় একটি অংশ বিহারি সম্প্রদায়ের। বংশপরম্পরায় তারা মাংস ব্যবসা ও পশু জবাইয়ের সঙ্গে জড়িত। নিখুঁতভাবে পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতে তাদের বিশেষ দক্ষতার কারণে রাজধানীতে তাদের আলাদা চাহিদা তৈরি হয়েছে।

ছোটু নাদিম বলেন, “কসাইয়ের কাজটাও এক ধরনের শিল্প। চামড়া অক্ষত রেখে ছাড়ানো কিংবা সুন্দরভাবে মাংস ভাগ করতে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রয়োজন।”

প্রায় ২০ বছর আগে বাবার হাত ধরে এই পেশায় আসেন নাদিম। এরপর থেকে প্রতি ঈদেই ঢাকায় গিয়ে কাজ করছেন। রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত পরিবারের বাড়িতে কোরবানির পশু জবাই করেছেন তিনি। এমনকি একসময় ঢাকার সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকার বাসাতেও কাজ করেছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, “খোকা সাহেব আমাদের থাকার ব্যবস্থাও করে দিতেন।”

গত বছর চার সহযোগী নিয়ে ঢাকায় গিয়ে ১২টি গরু জবাই করেছিলেন ছোটু নাদিম। এতে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় হয়েছিল বলে জানান তিনি। সহযোগীদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার পাশাপাশি যাতায়াত খরচও বহন করেন তিনি।

এবার সদস্য সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ জন। দলটিকে তিন ভাগে ভাগ করে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকার অনেক পরিবার তাদের বুকিংও দিয়ে রেখেছে।

ছোটু নাদিমের মতো সৈয়দপুর পৌর মাংসহাটির কসাই ফজলে রাব্বি, নওশাদ আলী ও খয়রাত হোসেনও পৃথক দল নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন। তারা স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্সি থেকে বিমান টিকিট সংগ্রহ করেছেন।

ফজলে রাব্বি বলেন, “ঈদের আগে ঢাকাগামী বিমানে যাত্রী তুলনামূলক কম থাকে। কারণ তখন বেশিরভাগ মানুষ ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরেন। তাই বিমান ভাড়াও কমে যায়। আমরা সেই সুযোগটাই কাজে লাগাই।”

ঢাকায় মাংস কাটার পারিশ্রমিক স্থানীয় এলাকার তুলনায় অনেক বেশি বলে জানান কসাই মো. মিন্টু। তিনি বলেন, “সৈয়দপুরে এক লাখ টাকার গরু জবাই করে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা পাওয়া যায়। অথচ ঢাকায় একই কাজের জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। একজন অভিজ্ঞ কসাই ঈদের তিন দিনে অন্তত ১০টি গরুর কাজ করতে পারেন।”

ঈদকে ঘিরে অতিরিক্ত আয়ের আশায় তাই প্রতিবছরই সৈয়দপুরের কসাইরা রাজধানীমুখী হন। তিন দিনের ব্যস্ততা শেষে মোটা অঙ্কের আয় নিয়ে আবার ফিরে যান নিজ শহরে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ