সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯১৭ শিশু। শুক্রবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে। আর গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে মোট ৯৯১ শিশুর।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৪ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৮৪৩ শিশু। এ সময়ে ৭৬১ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৭১ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ১০৫ জন। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৬৪১ জন।
এ সময়ে মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ২১৪ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২১ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। মার্চ মাস থেকে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকলে সরকারি পর্যায়ে তৎপরতা জোরদার করা হয়। এপ্রিলে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়ে মে মাসে শেষ হয়। তবে ওই কর্মসূচিতে ৩৯ লাখের বেশি শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির পরও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিশু আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে।

