মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কানাডায় এ বছর দাবানলের মতো চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে বলে এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দেশজুড়ে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, মৌসুমের শুরুতে দাবানলের তৎপরতা তুলনামূলক কম থাকলেও জুলাই থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের ঘাটতির কারণে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্টারিও এবং নর্থওয়েস্ট টেরিটরিজ।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কানাডায় ৩৮ লাখ হেক্টরেরও বেশি এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। এতে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং বিপজ্জনক মাত্রার ধোঁয়ার কারণে কোটি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়নে ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) গ্রুপ পর্যবেক্ষণ তথ্য ও জলবায়ু মডেল বিশ্লেষণ করে। গবেষকরা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে এমন একটি কাল্পনিক পরিস্থিতির তুলনা করেছেন, যেখানে শিল্পবিপ্লব-পরবর্তী মানবসৃষ্ট উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস না বাড়লে কী ধরনের আবহাওয়া দেখা যেত।
গবেষণায় অন্টারিও ও নর্থওয়েস্ট টেরিটরিজে সবচেয়ে ভয়াবহ সাত দিন ও ৩০ দিনের দাবানল-অনুকূল আবহাওয়ার সময়কাল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
ডব্লিউডব্লিউএ জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে নর্থওয়েস্ট টেরিটরিজে এ ধরনের চরম আবহাওয়া প্রতি ২ থেকে ৬ বছরে একবার এবং অন্টারিওতে প্রতি ৬ থেকে ১৫ বছরে একবার ঘটতে পারে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব না থাকলে এমন পরিস্থিতি প্রায় ৪০ বছরে একবার দেখা যাওয়ার কথা ছিল।
গবেষণার প্রধান লেখক থিওডোর কিপিং বলেন, ২০২৩ সালের পর থেকে কানাডায় দাবানলের ব্যাপ্তি ও তীব্রতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। দাবানল যেভাবে নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। তাঁর মতে, শুধু অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত কমানো জরুরি।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা শোষণক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় বনাঞ্চলের জৈব পদার্থ দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ঘন ঘন ও আরও ভয়াবহ দাবানলের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।


