জলবায়ু অভিযোজনে নারীর ক্ষমতায়নে জোর, বাজেটে বাড়ছে বিনিয়োগ

🕙 প্রকাশিত : ৬ আগস্ট, ২০২৬ । ৬:২২ এএম

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় নারীদের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে অভিযোজন কৌশল বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। জলবায়ু-সংবেদনশীল কর্মসূচি, সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই তাদের জীবিকা, নিরাপত্তা ও অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ সময়ের দাবি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সমাজের সব শ্রেণির মানুষের ওপর সমানভাবে পড়ে না। বিদ্যমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দুর্যোগের সময় নারীদের দায়িত্ব ও ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তাদের জন্য পৃথক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।

সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জলবায়ু বাজেটে নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু অভিযোজন এবং সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ‘জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন ও অভিযোজনে নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি’ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার ৮৮৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এই অর্থের মাধ্যমে জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের জন্য বিশেষ অভিযোজন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, জীবিকা রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পটুয়াখালীর দুমকিসহ লবণাক্ততাপ্রবণ এলাকায় জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ব্রি ধান-৬৭ চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে লবণাক্ততার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং গ্রামীণ নারীদের খাদ্য উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

সরকারের অভিযোজন পরিকল্পনায় অবকাঠামো উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ‘প্রত্যন্ত এলাকায় নারীদের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ’ খাতে ২২ হাজার ১৬৪ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নবনির্মিত ও সংস্কার করা ঘূর্ণিঝড় এবং দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রে নারীদের জন্য পৃথক স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ওয়াশ ব্লক এবং নিরাপদ স্থান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও পৃথক শৌচাগার নির্মাণ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে গ্রামীণ হাট-বাজারে পৃথক বিপণন এলাকা তৈরির উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে নারী উদ্যোক্তারা নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জলবায়ু বাজেটের ভূমিকায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি ও টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে জলবায়ু-সহনশীল ও জলবায়ু-সংবেদনশীল উন্নয়নের পথে এগোতে হবে। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ, টেকসই, বাসযোগ্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু অবকাঠামো নয়, নারীর ক্ষমতায়ন, জীবিকা সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণকে সমন্বিত করেই একটি টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ