মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রামের গাজীখালী নদীর অংশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক ব্যক্তিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাটুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মৌমিতা গুহ ইভা এ অর্থদন্ড প্রধান ও গ্রহণ করেন।
তিনি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, গাজীখালী নদীর দরগ্রাম এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবহন করার অভিযোগে উপজেলার চরতিল্লি এলাকার বাসিন্দা রাজা মিয়াকে যানবাহনসহ আটক করে।
পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন-২০২৩ এর ৪(ছ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে রাজা মিয়াকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মৌমিতা গুহ ইভা জানান, অবৈধভাবে নদী থেকে বালু ও মাটি উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং নদীভাঙনসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ও আদালত পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, দরগ্রাম এলকার গোলাম মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে দরগ্রাম, দিঘুলিয়া ও বরাইদ ইউনিয়নের নদী ও ফষলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ব্যবসা করে আসছে। বিগত আয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিজেকে মুজীব প্রেমী পরিচয় দিয়ে মাটি ও বালু সরবরাহ করতেন। বর্তমানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে নিজের খোলস পাল্টিয়ে নদীর বালু লোট করা অব্যাহত রেখেছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে যে বালু পরিবহনের মালিক রাজা মিয়াকে অর্থদন্ড দিয়েছেন। ঐ বালু এই মোস্তফাই সরবরাহ করে আসছিল।
এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। নদী থেকে যারাই বালু উত্তোলন করবে, তাদেরকেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

