বৃহস্পতিবার

২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো রামিসা

🕙 প্রকাশিত : ২১ মে, ২০২৬ । ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণের পর নির্মম হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানাজা শেষে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে রাত ৮টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রামিসার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

রামিসা মধ্য শিয়ালদী গ্রামের হান্নান মোল্লার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় শিশুটির পরিবারের আহাজারিতে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এদিকে, এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মুন্সিগঞ্জ শহরে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।

রামিসা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা বুধবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। একই মামলায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নেওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা।

ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে সেখানে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হলেও সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে আরও একজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তবে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার আগেই তিনি সেখান থেকে চলে যান।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ