রবিবার

৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভবনহীন মাদ্রাসায় ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান, মেঘ দেখলেই ছুটি

🕙 প্রকাশিত : ১০ মে, ২০২৬ । ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ

যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী গোগা ইউনিয়নের পাঁচ ভুলাট দাখিল মাদ্রাসায় চার দশক ধরে চলছে অবকাঠামোগত সংকট। শিক্ষার ফলাফলে সুনাম অর্জন করলেও এখনো একটি পাকা ভবন না পাওয়ায় জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি তিন যুগ আগে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে ইবতেদায়ি থেকে দাখিল পর্যন্ত ৫৯২ জন শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করছে। প্রতিবছর দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ পাসের সাফল্য ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। এখানকার অনেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন এবং সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদেও কর্মরত আছেন।
তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে এমন সাফল্যের বিপরীতে মাদ্রাসাটির অবকাঠামোগত অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কোনো পাকা ভবন না থাকায় পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড কক্ষে ক্লাস নিতে হচ্ছে। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়। ফলে আকাশে মেঘ জমলেই নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ছুটির ঘণ্টা বাজাতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ।
গ্রীষ্মকালেও দুর্ভোগ কম নয়। টিনের ঘরে প্রচণ্ড গরমে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ কারণে গরমের সময়ে ‘মর্নিং ক্লাস’ চালু রাখতে হয়।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসলিমা খাতুন ও সপ্তম শ্রেণির মারুফ হাসান জানায়, বৃষ্টির সময় অনেক শিক্ষার্থী ভিজে যাওয়ার ভয়ে মাদ্রাসায় আসতে চায় না। এমন পরিবেশে পড়াশোনা করতে তাদের কষ্ট হয়। তারা দ্রুত একটি চারতলা ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলো চললেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত বহুতল ভবন নির্মাণসহ মাদ্রাসাটির সার্বিক উন্নয়নে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আয়ুব আলী বলেন, “আমাদের কোনো পাকা ভবন নেই। এমনকি শিক্ষকদের বসার পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। একটি ছোট কক্ষে ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে গাদাগাদি করে বসতে হয়। অনেকেই বারান্দায় মাদুর পেতে বসেন। ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্রুত ছুটি দিতে হয়।”
অবকাঠামোগত সংকটের পাশাপাশি শিক্ষক সংকটও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। ২৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। শূন্য পদগুলো পূরণে এনটিআরসিএতে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ